অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক রিপোর্ট:: বহুল আলোচিত এলএনজি গ্যাস জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হলে এই খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হবে। ফলে ওই ঘাটতি মেটাতে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। যদিও ৬ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে হলে গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে কিন্তু একবারে ৬০ ভাগ মূল্য বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। এ কারণে ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সূত্র জানায়, পাইপ লাইনে এলএনজি গ্যাস যুক্ত হলে কত দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে তা ইতিমধ্যেই নির্ধারণ করে রেখেছে কমিশন। এই দাম বাড়ানোর পর যা ঘাটতি থাকবে তার ভর্তুকি দেয়া হবে। এলএনজি আমদানিতে ঘাটতির হিসাব করা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য গ্যাসের ৬০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু একবারে এত দাম বাড়ানো হলে জনমনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এই বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে দাম বাড়ানো হবে। তবে কোন অবস্থায়ই ২০ শতাংশের নীচে দাম বাড়ানো হবে না।

গত ১১ জুন থেকে গ্যাসের দাম ও সঞ্চালন বাড়ানো নিয়ে গণ-শুনানি শুরু করে কমিশন। এ বছর মার্চ মাসে গ্যাসের দাম ৭৫ শতাংশ বাড়ানো প্রস্তাব পাঠিয়েছিল গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো। তবে তারা আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রস্তাব দেয়নি। কমিশনের কারিগরি কমিটি ১৪৩ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করে। এক্ষেত্রে এলএনজি আমদানিকে বিবেচনা করছে কমিশন।

বিইআরসি’র একজন কর্মকর্তা বলেন, এলএনজি গ্যাস পাইপলাইনে যুক্ত হলেই কমিশন গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেবে। তবে কত শতাংশ দাম বাড়ানো হবে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি অবশ্য বলেছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন খরচও বাড়ে সে কারণে শিল্পায়নে তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে বিনিয়োগকারিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ বিষয়টিও বিবেচনা রেখেছে কমিশন।

বিইআরসি’র সদস্য আজিজ খান বলেছেন, এলএনজি গ্যাসের সাথে সমন্বয় করে গ্যাসের দাম বাড়ানো প্রস্তাব দিয়েছে বিতরন কোম্পানিগুলো। তাই পাইপলাইনে এলএনজি যুক্ত না হলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোন আদেশ দিতে পারবে না কমিশন। সে কারনে বিষয়টি এলএনজি সরবরাহের উপর নির্ভর করছে।

প্রসঙ্গত, এলএনজি ভর্তি জাহাজ অনেক আগেই দেশে এসেছে। জাহাজটি বর্তমানে মাতারবাড়িতে নোঙ্গর করে রয়েছে। কিন্তু পাইপ লাইনে সমস্যার কারনে জাতীয় গ্রীডে ওই গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সাগর উত্তাল থাকায় পাইপলাইন মেরামতের কাজে বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে অবশ্য চলতি মাসের প্রথম সপ্তায় পাইপ লাইনে এলএনজি গ্যাস সরবরাহ করার ঘোষণা দেয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।