অর্থনৈতিক ডেস্ক:: আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত হচ্ছে। সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে রিহাব ও এনবিআরের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে রিহ্যাব ও এনবিআরের এক যৌথসভায় প্রধান রতিথির বক্তব্যে নজিবুর রহমান এ কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা বৃত্তের বাইরে আসছি। জনগণের কাছে আমাদের সেবা পৌঁছে দিচ্ছি।’

২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের জুলাইতে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে। নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে যেন ব্যবসায়ীদের জটিলতা না থাকে এ জন্য এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এনবিআর কাজ করছে বলে জানান নজিবুর রহমান।

নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুগোপোযোগী কর আইন করছি। এ জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করছি। নতুন আয়কর আইন বাংলায় করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে গ্রামে আবাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন। এক্ষেত্রে রিহ্যাব কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল বলেন, আবাসন খাতের জন্য সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থার চালু প্রয়োজন। এজন্য রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমাতে হবে। সেকেন্ডারি বাজারে সর্বমোট তিন শতাংশ রেজিস্ট্রেশন খরচ এবং অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ব্যয় ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে সাত শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রতি বছর ১৫ থেকে ১৭ হাজার ফ্লাট হস্থান্তর হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। আমরা ফ্ল্যাট হস্থান্তর করছি।

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে আবাসন শিল্প বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। কর আরোপ ও সরকারের নীতি সহায়তার অভাবে আবাসন খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। বর্তমানে আর্থিক সরবরাহের অভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যথাযথ গৃহঋণ না থাকায় বিক্রিত ফ্ল্যাটের রিপ্লেমেন্ট হচ্ছে না। সময়মত ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ঋণখেলাপি হচ্ছে। উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের ফলে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছে। এজন্য রাজস্ব আয় কমছে।

সম্ভাবনাময় এ খাতকে এগিয়ে নিতে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় ও গেইন ট্যাক্স কমানো, সেকেন্ডারি বাজার তৈরি এবং স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল গঠনসহ বেশকিছু দাবি জানান নুরন্নবী চৌধুরী শাওন। রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সাড়ে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ছয় শতাংশ করার কথাও বলেন তিনি।

এনবিআরের সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, পারভেজ ইকবাল, রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।