অর্থনৈতিক ডেস্ক:: ভারত সরকার চাল রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর ভারত থেকে চাল রফতানি হবে না। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা গতকাল মঙ্গলবার ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমসে এসে পৌঁছেছে। বন্যার কারণে বোরো আমনের ক্ষতির ফলে বাংলাদেশ সরকার ভারতসহ আশপাশের দেশ থেকে ব্যাপক হারে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। আমদানির শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশ করা হয়, যাতে বেসরকারি খাতে চাল আমদানি বৃদ্ধি পায়। এমন একটি পর্যায়ে ভারতের এ সিদ্ধান্তে চাল আমদানিকারকদের মাথায় হাত। আমদানিকারকরা কাছের দেশ থেকেই আমদানি করতে পছন্দ করেন। কারণ খরচ কম পড়ে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভারতে চালের মূল্য যাতে বৃদ্ধি না পায় এবং খাদ্য সংকট সৃষ্টি না হয়, সেদিক বিবেচনা করে চাল রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রফতানি নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে বাসমতি চাল।

ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, ভারত থেকে যে হারে চাল বাংলাদেশে রফতানি হচ্ছে, তাতে ভারতে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এ জন্য কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাল রফতানি বন্ধ করতে চিঠি পাঠিয়েছে পেট্রাপোলে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা গোলাম মাওলা জানান, ভারত থেকে প্রতিদিন প্রচুর চাল আমদানি হচ্ছে। আজও আমদানি হয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার চাল রফতানি বন্ধ করেছে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি তারা এখনও পাননি। বেনাপোল বন্দরের এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মজুমদার জানান, ভারত থেকে তো প্রচুর চাল আসছে। বন্ধের কোনো খবর তারাও পাননি। খালাসের অপেক্ষায় বন্দরে প্রায় ২শ’ চালের ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৯ হাজার ৯শ ৯৯ টন চাল বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে।

বেনাপোলে চাল আমদানিকারক হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের মালিক আবদুুস সামাদ বলেন, ভারত সরকার খুব তাড়াতাড়ি চাল রফতানি বন্ধ করবে এ সংক্রান্ত কথা লোকমুখে শুনেছি। ভারত থেকে এখনও কোনো রফতানিকারক তাদের জানাননি।