নিজেস্ব প্রতিবেদক:: দেশের খামারিরা বুকভরা আশা নিয়ে দিন গুনছেন কখন জমে উঠবে পশুর হাট। ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র ১৩ দিন। দেশের বিভিন্ন জেলায় পশুর হাট বসলেও রাজধানীতে ঈদের চার থেকে পাঁচ দিন আগে দুই সিটি করপোরেশনে কোরবানির পশুর হাট বসবে। দেশের কয়েকটি জেলা বাদে প্রায় সবখানেই পশু মোটাতাজাকরণে দেশীয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি গরুকে স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হয়; তাহলে গরুর চর্বি অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। এ চর্বি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়াও এসব গরুর মাংস খাওয়ার ফলে লিভার দুর্বল ও কিডনির সমস্যা হতে পারে। এমনকি মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। দেশীয় পদ্ধতিতে খামারিরা কাঁচা ঘাস, ধানের খড়ের পাশাপাশি গরুকে খৈল, কুঁড়া, ভুসি খাওয়াচ্ছেন।

এদিকে, ভারত থেকে আমদানি না হলেও কোরবানিতে গরুর সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের মতোই কৃষকের ঘরে ও খামারে পালিত দেশীয় গরু-ছাগল দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ২৬ জুলাই জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেছেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য দেশেই পর্যাপ্ত সংখ্যক পশু রয়েছে। তাই দেশের বাইরে থেকে পশু আনার কোনো প্রয়োজন হবে না। অধিবেশনে বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কোরবানির পশু আছে, কেউ যাতে গুজব ছড়াতে না পারে সেজন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঈদের দুই সপ্তাহ বাকি নেই। রাজধানীর হাটগুলোয় সপ্তাহখানেক আগে থেকেই আসতে শুরু করে কোরবানির পশু। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ২১টি স্থানে পশুর হাট বসানো হবে এবার। এর মধ্যে গাবতলী স্থায়ী হাট বাদে বাকি সব ঈদের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে বসানো হয়। এ বছর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে গাবতলী স্থায়ী হাটসহ আটটি স্থানে হাট বসবে।

অপরদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে। দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যানুযায়ী, ২০টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে সাতটির ইজারা এখনও সম্পন্ন হয়নি। অর্থাৎ কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় ফের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

হাটের ইজারা সম্পর্কে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের আটটি হাটের মধ্যে সাতটির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। শুধু উত্তরখানের হাটটি এখনও ইজারা হয়নি। সেটার জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আবদুল মালেক সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ১৩টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে সাতটি ইজারা হয়েছে, বাকি ছয়টির জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তারা যেভাবে বলবে, সেভাবেই বাকি হাটগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।