অর্থনৈতিক ডেস্ক:: শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে করপোরেট কর ও রফতানিতে উৎসে কর কমানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- এফবিসিসিআই’র প্রথম সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, এফবিসিসিআইর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল হক, পরিচালক হাফেজ হারুন ও শমী কায়সার প্রমুখ।

সংগঠনটির মতে, প্রতি বছর বড় বাজেট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরে সংশোধন করতে হচ্ছে। বাজেট বাস্তবায়নের হার বাড়াতে বছরের শুরু থেকেই সুষ্ঠু মনিটরিং জোরদার জরুরি। একইসঙ্গে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তদারকের মান নিশ্চিত করা উচিত। তা না হলে বাজেট বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

লিখিত বক্তব্যে শুরুতে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। যা নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক যাতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন বজায় থাকে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা উৎপাদনশীল খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাতে প্রতিবন্ধকতা বা বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ কমিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মহিউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকিং খাতে যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে তাতে ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে বলে আশা করি। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অবশ্যই এ ব্যাপারে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের তিনি বলেন, সমাজে দুই ধরনের খেলাপি আছে। প্রথমত ইচ্ছাকৃত খেলাপি। এরা ব্যাংকের টাকা নিয়ে তছরুপ করছে। আর ফেরত দিতে চায় না। এ ধরনের যারা ব্যাংকের টাকা লুটপাট করছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এদের জন্য এফবিসিসিআই অ্যাডভোকেসি করবে না। দ্বিতীয়ত অনিচ্ছাকৃত খেলাপি। ব্যাংকের উচ্চ সুদ, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, হরতাল-অবরোধের কারণে অনেক ভালো ব্যবসায়ীও খেলাপি হয়ে যাচ্ছেন। এদের গঠনমূলকভাবে সহায়তা দিতে হবে।

মহিউদ্দিন বলেন, আমদানি পর্যায়ে এটিভি ১ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের স্বার্থে ব্যাংকের মতো অন্য উৎপাদনশীল খাতেও কর্পোরেট হার আড়াই শতাংশ কমানোর প্রয়োজন। করপোরেট কর হার কমালে মুনাফার অংশ ব্যবসায়ীরা পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন। কর্পোরেট হার কমালে রাজস্ব কমে না। প্রস্তাবিত বাজেটে পোশাক শিল্পের কর্পোটে কর বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। যা বর্তমানে ১২ শতাংশ রয়েছে। গ্রীণ কারখানার ক্ষেত্রেও ২ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে পোশাক খাতের পুনঃবিনিয়োগের অর্থের যোগান ঘাটতি হবে। যা এ শিল্পের বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, গত দুই বছরে এ খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এ কারণে পোশাক খাতের কর্পোরেট কর আগের অবস্থায় রাখার প্রস্তাব করছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া রফতানিতে উৎসে কর বিদ্যমান হার বহাল রাখার দাবি জাচ্ছেনর তারা। এগুলো যৌক্তিক করতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে।

রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মহিউদ্দিন বলেন, রাজস্ব আদায়ের এই উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং আইন-কানুনের অপপ্রয়োগ ও কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছা ক্ষমতার কারণে ব্যবসায়িদেরকে হয়রানি করা হয়ে থাকে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিবিড় মনিটরিং ও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।