অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক রিপোর্ট:: আগামী দেড় মাস পরেই ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার বাজার ধরতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন চলছে মসলা আমদানির তৎপরতা। তবে ঈদের আগেই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের আমদানি করা মসলার বড় অংশ বাজারে যোগ হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে আছেন তাঁরা। কারণ নতুন নিয়মানুযায়ী, চট্টগ্রামের পরিবর্তে এখন ঢাকা থেকে মসলা আমদানির অনুমতি নিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের বাড়তি তিন থেকে সাত দিন সময় লাগছে।
এ ছাড়া বন্দরে জাহাজ আসার পর আমদানি পণ্য হাতে পেতে তিন থেকে সাত দিন বেশি সময় লাগছে বলেও জানান আমদানিকারকেরা। ফলে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার আগেই হোঁচট খাচ্ছেন তাঁরা।
নতুন নিয়মানুযায়ী, মসলার পাশাপাশি মোট ১২৫ ধরনের উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য আমদানির আগে ঢাকা থেকে অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা চালু করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ উইংয়ের ঢাকা কার্যালয় থেকে আমদানির এ অনুমতি নিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। গত রোববার থেকে এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়। এ সময়টাতে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা মসলা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আগে চট্টগ্রাম থেকেই দিনে দিনেই আমদানির অনুমতি নিতেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্বের ২৩টি দেশ থেকে মসলা আমদানি হয়। রোজার বাজারের গরম মসলার বড় অংশই আমদানি হয় গুয়াতেমালা, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল, মাদাগাস্কার, শ্রীলঙ্কা, ভারতের মতো দেশ থেকে। ঋণপত্র খোলার পর দেশভেদে মসলা আমদানিতে সময় লাগে ২০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত। সেই হিসাবে আমদানি প্রক্রিয়া শুরুতে সময়ক্ষেপণ হলে ঈদের আগেই আমদানি করা সব মসলা দেশে এসে পৌঁছানো নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
কাস্টমসের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৩১০ টন মসলা আমদানি হয়। আমদানি হওয়া মসলার প্রায় ৪৫ শতাংশই এনেছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। বাকি মসলা ঢাকা, খুলনা, বগুড়া ও রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা আমদানি করেছেন। অর্থাৎ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের আমদানি করা মসলার সরবরাহে ব্যাঘাত হলে সারা দেশেই এর প্রভাব পড়বে।
মসলা আমদানিকারক সমিতির সহসভাপতি ও এ বি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অমর কান্তি দাশ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় গিয়ে আমদানির অনুমতির আবেদন জমা ও অনুমতিপত্র জোগাড় করে চট্টগ্রামে আসতেই তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এমনিতেই জাহাজ আসার পর আমদানি করা পণ্য হাতে পেতে বাড়তি সময় লাগছে। এখন নতুন নিয়মের কারণে পণ্য আমদানিতে আরও বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে আমদানি খরচ বাড়ছে। এই খরচ পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভোক্তার কাঁধে পড়বে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোববার থেকে মসলাসহ ১২৫ ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতিপত্র সংগ্রহের জন্য ব্যবসায়ীরা ঢাকায় দৌড়াচ্ছেন। এমনই একজন ব্যবসায়ী ফারুক আহমেদ। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আগে দিনে দিনে অনুমতি পাওয়া যেত। সবশেষ ঢাকা থেকে মসলার তিনটি চালানের আমদানির অনুমতি জোগাড় করতে চার দিন সময় লেগেছে। এ অবস্থা চললে প্রতি সপ্তাহে ঋণপত্র খোলার জন্য তাঁকে ঢাকায় লোক পাঠাতে হবে বলে তিনি জানান।
গত ১০ মে ‘উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ বিধিমালা ২০১৮’ গেজেট আকারে জারি হয়। এই বিধিমালা অনুযায়ী, ১২৫ ধরনের পণ্য আমদানি অনুমতিপত্র নিতে হবে উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কর্তৃপক্ষ থেকে। বিধিমালা অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংঘ নিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক এই অনুমতি প্রদান করবেন। এই বিধিমালা জারি হওয়ার পর সংঘ নিরোধ উইং থেকে সংস্থাটির চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গত সপ্তাহে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর তা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে জানানো হলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও তাতে আপত্তি জানায়।
জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আজহার আলী প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় তাঁদের কাছে মতামত জানতে চেয়েছে। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে মতামত পাঠানোর পর এ বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর আগ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য আবেদন জমার পর খুব দ্রুত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।