অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক রিপোর্ট:: নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটে নিরাপত্তাহীনতায় পোশাক শিল্পের অনেক বিদেশী ক্রেতা বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

গতকাল সোমবার রাজধানীর কাওরানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং উদ্ভুত পরিস্থিতি বিষয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় সংগঠনটির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত ২৯ জুলাই দুঃখজনক বাস দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী রাজীব ও মীম এর মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুর ঘটনায় আমরা মর্মাহত। তাদের রূহের মাগফেরাতসহ আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। তাদের হত্যার বিচারের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে রাস্তায় আন্দোলন করছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই যে তারা প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সড়ক ছেড়ে ঘরে ফিরে গেছে। নিরাপদ সড়ক আমাদেরও দাবি। আমরা কখনোই কামনা করি না, সড়ক দুর্ঘটনায় একটিও প্রাণ ঝরে পড়ুক। তবে আমরা শঙ্কার সাথে লক্ষ্য করছি ছাত্ররা ঘরে ফিরে গেলেও যানবাহন পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি। সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে পর্যাপ্ত যানবাহন নামেনি। ফলে, জনগনকে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে রপ্তানিমূখী তৈরি পোশাক শিল্প। এই অস্থিতিকর পরিস্থিতে আমরা গত ১ সপ্তাহে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ঠিকমতো পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানিসহ পণ্য আনা-নেয়া করতে পারিনি। ফলে, বন্দরে কন্টেইনার ভর্তি রপ্তানির পণ্য পড়ে আছে। এদিকে জাহাজীকরনের অপেক্ষায় কারখানায় পড়ে আছে তৈরি পণ্য। এ অবস্থায় যানবাহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অনেক কারখানা ষ্টকলটের শিকার হবে বলে আমরা মনে করছি।

খুব দ্রুত পরিবহন খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে না পারলে অনেক কারখানা এয়ার ফ্রেইট করতে বাধ্য হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাশুল দিতে হবে পোশাক শিল্পকে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনা, তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকান্ড, হলি-আর্টিজানের জঙ্গি হামলার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেছে এরকম সময় দেশের অভ্যন্তরীন যে কোনো ধরণের অস্থিরত আমাদের কাম্য নয়।