অর্থনৈতিক ডেস্ক:: পটুয়াখালীর পায়রা ও কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৃথক বিদুৎ কেন্দ্র হচ্ছে। দুটি কেন্দ্রই হবে বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, নতুন দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র হবে তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের, যা এ পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প।

জানা গেছে, তরল প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক (এলএনজি) এই কেন্দ্রগুলো নির্মিত হবে জার্মানির অর্থায়নে। দুই প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা। জার্মান কোম্পানি সিমেন্স এজি বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির (এনডব্লিউপিজিসিএল) সঙ্গে পায়রায় এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে মহেশখালীতে যৌথ উদ্যোগে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করবে।

দুই প্রকল্পের মধ্যে নর্থওয়েস্টের প্রকল্পটির কার্যক্রম বেশি এগিয়েছে। আজ রোববার সিমেন্সের সঙ্গে প্রকল্প সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবে এনডব্লিউপিজিসিএল। আর পিডিবির সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত এমওইউ সই হতে পারে।

পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, মহেশখালীতে একটি বিদ্যুৎ হাব হবে। এখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি এলএনজিভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প হবে। সিমেন্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার একটি প্রস্তাব এসেছে। তা যাচাই করা হচ্ছে। এর পরই সমঝোতা স্মারক সই হবে।

জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এলএনজিভিত্তিক কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপের ৭৫০ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্প মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। এলএনজিভিত্তিক এ কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম চূড়ান্ত হয়েছে সাত দশমিক ৩১ সেন্ট (৫ টাকা ৮৫ পয়সা)। কেন্দ্রটি নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে নির্মাণ করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, সিমেন্স গত জুলাইতে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে আট হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব দেয়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ নর্থওয়েস্ট ও পিডিবিকে এ বিষয়ে আলোচনার নির্দেশ দেয়। সিমেন্স তাদের প্রতিবেদনে প্রতি ইউনিটের দাম প্রস্তাব করেছে সাত সেন্ট (৫ টাকা ৬০ পয়সা)।

আলোচনার ক্ষেত্রে পিডিবির চেয়ে নর্থওয়েস্ট এগিয়ে যায়। গত ১০ অক্টোবর সিমেন্স এমওইউ’র একটি খসড়া পাঠায় নর্থওয়েস্টকে। খসড়ার ওপর আলোচনার পর তা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়া হয়েছে।