অর্থ-বানিজ্য ডেস্ক:: স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসাবে সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম (জোট) আজ (সোমবার) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেকহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে ৯৪৫ কোটি টাকা পাঠাবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ডিএসই ও চীনা জোটের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, চীনের কনসোর্টিয়াম ডিএসইর প্রতিটি শেয়ার ২২ টাকা দামে ক্রয় করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু শর্তানুযায়ী, ডিএসই’র শেয়ারহোল্ডাররা প্রতি শেয়ারে ১ টাকা বা ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড গ্রহণ করায় প্রতিটি শেয়ারের দাম সমপরিমান কমে এসেছে। এক্ষেত্রে চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইর ১৮০ কোটি শেয়ারের ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি শেয়ারের জন্য প্রতিটি ২১ টাকা দরে ৯৪৫ কোটি টাকা দেবে।

অন্যদিকে চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা (৩৭ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় করবে। যাতে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হতে চীনের মোট ১ হাজার ২৪৫ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হবে।

অর্থ পরিশোধ এবং ডিএসইর শেয়ার নিতে চীনা কনসোর্টিয়ামের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে। এজন্য চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিটা অ্যাকাউন্ট (বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ টাকায় রূপান্তরের বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে এই অ্যাকাউন্ট খুলে ডিএসইর শেয়ারের জন্য অর্থ পরিশোধ করবে চীনা কনসোর্টিয়াম।

ডিএসইর শেয়ার পেতে অর্থ পরিশোধের পর মঙ্গলবার বোর্ড সভা করবে ডিএসই। সকালে অনুষ্ঠিত ওই বোর্ড সভায় চীনা কনসোর্টিয়ামের ১জন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। যিনি পরবর্তীতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবেন। বোর্ড সভার মাধ্যমেই শেয়ার হস্তান্তরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়ামকে নিটা অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ অনুমতির বিষয়টি পরের দিন ২৭ আগস্ট ডিএসই থেকে জোটটিকে জানানো হয়।

এর আগে গত ১৪ মে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসাবে চীনের দুই শেয়ারবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ডিএসইর চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর আগে ৩ মে চীনা কনসোর্টিয়ামকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আর এই অনুমোদনের জন্য ৩০ এপ্রিল অনুমোদন দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডাররা। একইদিন বিকালে অনুমোদনের জন্য বিএসইসিতে প্রস্তাব জমা দেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ।