অর্থনৈতিক প্রতিবেদক::

নির্বাচনের আগে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সিদ্ধান্ত বদলের পর নির্বাচনে শেষে নতুন বছরের প্রথম দিনই সোনার দর বাড়ালেন ব্যবসায়ীরা। ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে দেড় হাজার টাকার বেশি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, আজ বুধবার থেকেই এই নতুন দর কার্যকর হবে।

গত ২২ ডিসেম্বর বিকেলে সব ধরনের ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর রাতে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৩ ডিসেম্বরও থেকে দেশীয় বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাজুসের নির্বাহী কমিটি। পরবর্তীতে ক্রেতা সাধারণের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বড়দিন এবং ইংরেজি নববর্ষের কথা বিবেচনায় নিয়ে পূর্বের মূল্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় সাধারণ জুয়েলার্স লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছে বিধায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ বুধবার (২ জানুয়ারি) থেকে সোনার দাম বাড়ানো হল।

নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনা ৪৮ হাজার ৯৮৯ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪৬ হাজার ৬৫৬ টাকা। আর ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪১ হাজার ৬৪০ টাকায়।

মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতি ভরি সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনা ৪৭ হাজার ৪৭২ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪৫ হাজার ১৯৮ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪০ হাজার ১২৪ টাকায়। এ হিসাবে ২২ এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ৫১৬ টাকা কওে বেড়েছে। আর ২১ ক্যারেটের দাম বেড়েছে এক হাজার ৪৫৮ টাকা।

তবে গ্রামে-গঞ্জে, মফস্বলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি আগের ২৭ হাজার ৫৮৫ টাকাই থাকবে বলে জানায় বাজুস।

৬ আগস্ট ১৮, ২১ এবং ২২ ক্যারেট সোনার দর এক হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে। সনাতন পদ্ধতির সোনা পুরনো অলঙ্কার গলিয়ে তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে কত শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা মিলবে তার কোনো মানদন্ড নেই। অলংকার তৈরিতে সোনার দরের সঙ্গে মজুরি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যোগ করে দাম ঠিক করা হয়। রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের এক হাজার ৫০ টাকা ভরিতেই বিক্রি হবে রুপা।