অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক:: চলমান পুঁজিবাজারে পতনের পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ খুঁজে পায়নি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা।

তবে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যাতে বিনিয়োগকারীরা ভয়ে লোকসানেও শেয়ার বিক্রয় করে দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় সহায়তা করতে বন্ডের ২ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশে (আইসিবি)।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার আইসিবিতে স্টেকহোল্ডারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মো. সাইফুর রহমান, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে এমন কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই, যার কারণে পুঁজিবাজারে পতন হতে পারে। ৫ বছর পরপর নির্বাচন হবে এটাই স্বাভাবিক। এতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।

তিনি বলেন, বাজারকে তারল্য সংকট থেকে উত্তোলনে আইসিবিকে ২ হাজার কোটি টাকার ফান্ড দেওয়া হয়েছে। এই ফান্ডের টাকা আগামী সাপ্তাহে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হবে। পাশাপাশি চীনা কনসোটিয়ামের সাড়ে ৯শ কোটি টাকার ১০ শতাংশ গেইন ট্যাক্স ছাড়ের সার্কুলার আগামী সপ্তাহে হবে। ফলে এই টাকাও আগামী সপ্তাহের পর থেকে বাজারে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক বলেন, গত কয়েকদিনের বাজারে পতন নিয়ে আজকে বৈঠক হয়। এতে পতনের কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই পতনে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা বাজার নিয়ে আশাবাদী। সামনে পুঁজিবাজার ভালো হবে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে বন্ডে ইস্যুকৃত ২ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই এই বাজারে বিনিয়োগ করার কথা চিন্তা করছি। যদিও দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া চীনা কনসোর্টিয়ামের টাকাটা দ্রুত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হবে।

বাজারের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করার জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন কাজী সানাউল হক। পুঁজিবাজারের যেসব বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হয় না বা হয়নি, সেগুলো নিয়ে এই কমিটি কাজ করবে। অনেকটা সমন্বয় কমিটির মতো। বিএসইসি এই কমিটি গঠন করে দেবে।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক রয়েছে উল্লেখ্য করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এমডি কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, যে কোনো দেশের নির্বাচনের আগে কিছু কিছু বিনিয়োগকারীরা সর্তকতা অবলম্বন করে। এ কারণে আমাদের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ এখন কম। এটা শুধু আমাদের দেশেই নয়, ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কাসহ প্রায় সব দেশেই হয়।

বৈঠকে ডিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে পুঁজিবাজারে কোনো সমস্যা হয়নি। আর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুঁজিবাজারে পতন হচ্ছে এটা ঠিক না। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যেটা স্বল্পমেয়াদি।

ডিএসই’র বাজার বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক ৬৩৩৬ পয়েন্টে স্থিতি পায়। এর পর থেকে ছন্দ পতন শুরু হয় ডিএসই’র প্রধান সূচকে। ফেব্রুয়ারিতে সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে। গত জুলাই থেকে বাজারের সার্বিক মূল্য সূচক ৫ হাজার ২৭৩ পয়েন্টে নেমে আসে। কিন্তু এর পর থেকে সূচক ও লেনদেনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ছিল।

অব্যাহত দর পতনে বাজারের সার্বিক মূল্য সোমবার ৫ হাজার ২৫১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। যা বিগত প্রায় ২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক ৫ হাজার ২১৪ পয়েন্টে ছিল।