অর্থনৈতিক ডেস্ক:: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘পাটকে আমি রিভাইস করতে চাই। কিন্তু এখানে পুরনো বিজেএমসির কোনও জায়গা নাই। এটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মন্ত্রণালয়ে পাট সংক্রান্ত একটি সেল থাকতে পারে। পাট মন্ত্রণালয় বিজেএমসির খপ্পরে পড়েছে। প্রতি বছর সরকারি কোষাগার থেকে বিজেএমসিকে ৪০০-৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরেও ওদের ক্ষুধা মেটে না।’

বুধবার (৭ মার্চ) দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীর সমিতির উদ্যোগে স্মরণিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেএমসি তার ৯০ শতাংশ কর্মচারীকে স্থায়ী করে ফেলেছে। কথা ছিল, বিজেএমসির ৫০ শতাংশ কর্মচারী স্থায়ী হবে। যেহেতু পাট একটি সিজনাল (মৌসুমী) পণ্য সে কারণে সারা বছর ৫০ শতাংশর বেশি কর্মচারীর প্রয়োজন নেই। সিজনে বাকি ৫০ শতাংশ কর্মচারীদের কাজে লাগিয়ে শতভাগ কাজ করা সম্ভব।’ এদের নিয়ে পরামর্শ কী, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রথম পরামর্শ বিজেএমসিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পাটকে এগিয়ে নিতে হবে।’

সোমবার (৫ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণমাধ্যমের অর্থনীতি বিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘পাটের উন্নয়ন: গণমাধ্যমের ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য হিসেবে পাট তালিকাভুক্ত না হওয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়কে দায়ী করেছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। এসময় তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী মনে হয় পাটের প্রতি একটু বিরূপ।’

প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা আজম অর্থমন্ত্রণালয় ও আমার সম্পর্কে যা বলেছেন তা তার ব্যক্তিগত অভিমত। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই।’