নিজস্ব প্রতিবেদক::

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) এক জরিপে বলছে রপ্তানিকারকদের বর্তমান ক্ষমতার মধ্যেই এ খাতে দেশের আয় আরো ১৭’শ কোটি ডলার বৃদ্ধি করা যায়। পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাহিদি সাত্তার বলেছেন, এ ধরনের বর্ধিত রপ্তানি আয়ের ১১.৪ বিলিয়ন ডলার ইউরোপ থেকেই আসতে পারে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ইউরোপে পণ্য রফতানি করে আয় করছে ২১ বিলিয়ন ডলার। যার ১৯.৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে পোশাক রপ্তানি থেকে। ২০০৮ থেকে গত বছর পর্যন্ত ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ শতাংশ হারে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

পিআরআই’এর বিশ্লেষণে আরো বলা হয়, আগামী ৭/৮ বছরে চীন ৩০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির সুযোগ হারাতে পারে যা ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ও মিয়ানমারের পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করে সহজেই এধরনের বাড়তি রপ্তানির সুযোগ নিতে পারে।

গত বুধবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে জাহিদি সাত্তার বলেন, উৎপাদনশীলতা ও অবকাঠামোর মান বৃদ্ধি করে সহজেই বাংলাদেশ রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করতে পারে। এক্ষেত্রে রপ্তানি নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রক্ষণশীল নীতি এক্ষেত্রে রপ্তানি নীতির সাথে যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তা দূর করতে হবে। বিশাল আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা স্থানীয় বাজারে উৎপাদনব্যবস্থা এখনো যোগান দিয়ে উঠতে পারছে না। এমনকি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ২০২৭ সালে ইউরোপে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পোশাক রফতানিতে ১.৬ বিলিয়ন ডলার লোকসান গুনতে পারে। কারণ তখন পোশাক রফতানিতে ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হতে পারে। তবে জিএসপি সুবিধা পেলে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা অক্ষুন্ন রাখতে পারে। কিন্তু রফতানিতে যে সক্ষমতা রয়েছে তাতে এ সম্ভাবনা খুবই কম। একই সঙ্গে ইউরোপের সঙ্গে এফটিএর মত বাণিজ্য চুক্তিরও তাগিদ দেয় পিআরআই। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা ১৫.৬২ শতাংশ শুল্ক দিলেও ভালই ব্যবসা করছে।