অর্থনৈতিক ডেস্ক:: রাশিয়া বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বিশ্ব বাজারে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জার্সিসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করে সরবরাহ করছে বাংলাদেশ। চাঙ্গা হয়েছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিও। বিশ্বের কোটি সমর্থকদের সাথে বাংলাদেশের ভক্তরাও মেতেছে বিশ্বকাপ নিয়ে। চলছে প্রিয় দলের পতাকা আর জার্সি কেনার ধুম।

বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন বাংলাদেশে। বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন উড়ছে পছন্দের দলগুলোর পতাকা। যার মাধ্যমে গতিশীল হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। যার মাধ্যমে খেলায় অংশ নিতে না পারলেও বিশ্বকাপের আসরে থাকবে বাংলাদেশ।

বইছে বিশ্বকাপ ফুটবলের হাওয়া। যে হাওয়ায় ডানা মেলেছে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা আর জার্মানিসহ সব দেশের পতাকা। যার রঙে আকাশ হয়ে উঠেছে রঙিন। পতাকার এই রঙ যোজন মাইল দূরের দেশ রাশিয়ার মস্কোতে পৌঁছে দিতে চায় এদেশের ভক্তরা। যেখানে ১৪ই জুন ৩২টি দেশ নিয়ে শুরু হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ।

বিশ্বকাপ ভক্তরা বলছেন, আসছে ঈদকে কেন্দ্র করে শপিংয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপকে ঘিরেও চলছে কেনাকাটা। বিক্রেতারা বলছেন, বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে, পাইকারি থেকে খুচরাভাবে চাহিদা বেড়েছে অনেক। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা বিক্রি হয়েছে।

বিশ্বকাপের লড়াইয়ে বাংলাদেশ নেই, তার পরেও যেনো জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের দেশটির তৈরি জার্সি থাকবে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের গায়ে। জার্সিতেই শেষ নয়, গেঞ্জি, হাফপ্যান্টসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করে সরবরাহ করছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক সংস্থা ফিফার কার্যাদেশের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান ব্র্যান্ড এসব পণ্য আমদানি করছে। যার মাধ্যমে গতিশীল হচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

পোশাক শিল্প মালিক সমিতি বিকেএমইএর তথ্য মতে, এবার বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জার্সি ও খেলার কিট রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে যা ছিল প্রায় ৭০ কোটি ডলার। একে দেশের জন্য গৌরবের বলছেন রপ্তানিকারকরা।

এমবি নিট ফ্যাশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, আমি একটি স্পেনের জার্সির অর্ডার পেয়েছি, কায়েক দিনের মধ্যেই তা যাবে সেখানে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে রাশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মাল যাচ্ছে। তার সাথে গ্যালারিতে অধিকাংশ জায়গা জুড়েই থাকছে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে এ বছর বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি আগেরবারের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরেই নয়, অন্য সময়ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে। এবার সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে খেলোয়াড়দের জার্সি, গেঞ্জি, হাফপ্যান্ট, শীতের পোশাক, ট্রাউজার, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জাতীয় পতাকা ইত্যাদি। এগুলোর বেশিরভাগই ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইতালি, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল রপ্তানি হয়।

ফিফা রেঙ্কিং এ ১৯৭ তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের খেলার সুযোগ না মিললেও বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে জাতীয় ও বিশ্বকাপের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে বাংলাদেশ।সূত্র : ডিবিসি নিউজ