অর্থনৈতিক ডেস্ক:: রাশিয়ায় শুল্কমুক্ত বাজার (জিএসপি) সুবিধা পেতে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে যে সমঝোতা চুক্তির প্রয়োজন সেটি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘গত কয়েক বছরে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের মোট আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে এবং তা এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এ পর্যায়ে রাশিয়াতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করে চলেছি। রাশিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে আমরা ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের কাজ চূড়ান্ত করেছি।’ চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হওয়ার পর থেকেই স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ হিসেবে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা চাইছে বাংলাদেশ। তবে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ব্যাংকিং লেনদেন, দ্বৈতকরসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, চীনের পর বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আর তৃতীয় বৃহত্তম পোশাকের বাজার রাশিয়া। প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের পোশাকের বাজার রয়েছে দেশটিতে। রাশিয়ার মাধ্যমে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ১১ দেশের জোট কমনওয়লেথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। প্রায় ১৪ হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি বাজার রয়েছে এই সিআইএস জোটে। সুযোগ রয়েছে আরমেনিয়া, বেলারুশ, কাজাকিস্তান, কিরঘিজিস্তানকে নিয়ে রাশিয়ান নেতৃত্বাধীন ইউরেশিয়ান কাস্টমস ইউনিয়নেও বাজার সুবিধা নেওয়ার। সেই সুযোগটিই নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জিএসপি সুবিধার ব্যাপারে এরই মধ্যে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া জিএসপি বা শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য ৭১টি ট্যারিফ লাইনের পণ্যের তালিকাও রাশিয়ান ফেডারেশনের নেতৃত্বে গঠিত ইউরেশিয়ান কাস্টমস ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছে। এখন তারা সম্মতি দিলেই চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, গত জুনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ রাশিয়া সফর করেন। ওই সময় সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ান ফেডারেশনের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ডেনিস ভেলেনটিনোভিস মানটুরোভের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একান্ত বৈঠকে তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানান। সে সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, রাশিয়ায় জিএসপি সুবিধা পেলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য অনেক বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি, চামড়া ও পাট পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে রাশিয়ায়। বাংলাদেশ এগুলো স্বল্পমূল্যে রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।