অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক::
দেশের ১০২টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) ১০২টি উপজেলা ছাড়াও ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন তিনি। পাশাপাশি উড়োজাহাজে জ্বালানি তেল পরিবহন নিরাপদ ঝুঁকিমুক্ত, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন করতে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ থেকে কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো পর্যন্ত পাইপলাইনের স্থাপনার উদ্বোধন করবেন তিনি।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) বিদ্যুৎ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ সবিচ ড. আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ ঊর্ধবতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় বিদ্যুতের প্রকৃত উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগওয়াট। বিগত ১০ বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ৪ গুণের বেশি বেড়ে বর্তমানে ২০ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।’

নসরুল হামিদ আরও বলেন, ‘বর্তমানে মোট ১৩ হাজার ৬৫৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে। এছাড়া ২৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে যার মোট ক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ৪৬১ মেগাওয়াট। অন্যদিকে প্রায় ২০ হাজার ১৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিকল্পনাধীন আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে আমদানি করা জেট এ-১ জ্বালানি তেল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে সরবরাহ করার জন্য পদ্মা অয়েল কোম্পানির চট্টগ্রামের পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনা থেকে নদীপথে কোস্টাল ট্যাংকারে করে নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত গোদনাইল ডিপোতে আনা হয়। সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ জ্বালানি ১৫০টি ট্যাংক লরির মাধ্যমে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে পরিবহন করা হয়। যানজটের কারণে ঢাকা শহরের মধ্য দিয়ে ট্যাংক লরির মাধ্যমে সড়ক পথে জেট এ-১ জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যবস্থা দিনে দিন ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। এসব কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে জ্বালানি তেল নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে পরিবহনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ থেকে কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮ ইঞ্চি ব্যাসের ভূগর্ভস্থ জেট এ-১ পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ২২৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা যা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে আছে বড়পুকুরিয়া ২৭৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট, কেরানীগঞ্জ জেলার ব্রাহ্মণগাঁও ১০০ মেগাওয়াট ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র, কেরানীগঞ্জ জেলার আওরাহাটি ১০০ মেগাওয়াট ডিজেলচালিত, গাজীপুর জেলার কড্ডায় ১৪৯ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েলভিত্তিক, কেরানীগঞ্জ জেলার পানগাঁও ৩০০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েল, সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক ও টেকনাফে ২০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র।

শতভাগ বিদ্যুতায়ন হওয়া উপজেলারগুলোর মধ্যে আছে ঢাকা জেলার ৫টি, কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, নাটোরের ৩টি, রাজশাহীর ৪টি, বাগেরহাটের চিতলমারী, যশোরে ৩টি, চুয়াডাঙ্গার দু’টি, পিরোজপুর সদর, মানিকগঞ্জের ৩টি, নওগার ৪টি, ঝালকাঠির ২টি, পাবনা সদর, সিলেটের ৪টি, খুলনার ডুমুরিয়া, ফেনী সদর, কুষ্টিয়া সদর, দিনাজপুরের ২টি, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ, চট্টগ্রামের ৪টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩টি, কুমিল্লার ১১টি, নোয়াখালীর ২টি, রংপুরের ২টি, সুনামগঞ্জ দক্ষিণ, সাতক্ষীরার তালা, কক্সবাজারের ২টি, মেহেরপুরেরর গাংনী, ভোলার ২টি. সিরাজগঞ্জের ৪টি, নেত্রকোনার ২টি, মাদারীপুর সদর, নীলফামারী সদর, গাজীপুর ২টি, শরীয়তপুরের ৩টি, চাদপুরের ৩টি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, বগুড়ার ৭টি, ফরিদুপরের ২টি, মাগুরার ২টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেবে সরকার।