স্পোর্টস ডেস্ক::

আধুনিক প্রজন্মের সেরা দুই ব্যাটসম্যান। যুব দলের প্রতিনিধি হিসেবে যাঁদের প্রথম মুখোমুখি হওয়া। সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল দ্বৈরথে মুখোমুখি দু’দলের অধিনায়ক। তাঁদের দিকে তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু সেমিফাইনালের মহারণের আগে একে অন্যের দিকে তীর ছোড়া নয়, বরং সংবাদ সম্মেলনে পরস্পরের প্রশংসায় মাতেন তাঁরা।

বিশ্বকাপে আজ প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও ও নিউজিল্যান্ড। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে তিনটায়। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে সেরা অবস্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করে ভারত। আর ১১ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে থেকে লিগ পর্ব শেষ করে নিউজিল্যান্ড।

বিরাট কোহালি এবং কেন উইলিয়ামসন। দু’জনের আগেও দেখা হয়েছিল। এগারো বছর আগে সেটাও ছিল বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। তবে অনূর্ধ্ব উনিশে। কে জানত, দু’জনে আবার দেখা হবে সিনিয়র বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে। মালয়েশিয়ায় সেদিন বিরাটের ভারত তিন উইকেটে উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে এবং চ্যাম্পিয়ন হয়। এমন মজাদার তথ্যও পাওয়া গেল যে, সেই ম্যাচে উইলিয়ামসনের উইকেট নিয়েছিলেন কোহালি। যা শুনে ভারত অধিনায়ক বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।

একবার মজা করে বলে ফেললেন, ‘পাঁচ বোলারে না খেললে আবার আমাকেই কেনের উইকেট নিতে হবে।’ উইলিয়ামসনেরও স্মৃতি হাতড়ে মনে পড়ল, ‘হ্যাঁ, কোহলি তখন কিছুটা অলরাউন্ডার মতো ছিল। এখন আর অতটা বল করে না ও।’

কোহালি, উইলিয়ামসন, জো রুট এবং স্টিভ স্মিথ। আধুনিক ক্রিকেটে এই চারজনকেই বিশ্বের সেরা মনে করা হয়। দু’টি সেমিফাইনালে চারজন মুখোমুখি হচ্ছেন। কোহলি এবং উইলিয়ামসন যদিও একেবারে দুই পৃথিবীর বাসিন্দা। মাঠে দাঁড়িয়ে কোহলি অনেক বেশি আক্রমণাত্মক, মনের ভিতরে যা আছে, বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে দ্বিধা করেন না। উইলিয়ামসন সেই তুলনায় অনেক শান্ত, ধীরস্থির ভঙ্গিতে কাজ সারেন। দু’জনের মুখেই দাড়ি আর তার আড়ালে চোয়াল শক্ত করা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মুখ। দু’জনেই বিশ্বকাপ দারুণ ছন্দে রয়েছেন। উইলিয়ামসন তাঁর দলের সর্বোচ্চ স্কোরার এবং বাকিরা যখন ব্যর্থ হচ্ছেন, তিনি একা টানছেন। যদিও সংবাদ সম্মেলনে বারবার নিজের ভূমিকাকে গৌণ করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। বলেছেন, ‘টিমের সকলে অবদান রাখছে। আমার একার ব্যাটেই দল জিতছে, কথাটা মোটেও ঠিক নয়।’

যদি কেউ ভেবে থাকেন, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে দুই অধিনায়কের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হবে, তাহলে ম্যানচেস্টার হতাশ করবে। কারণ দুই অধিনায়ক একে অন্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসাই করেছেন সংবাদ সম্মেলনে। কোহলির যেমন মনে পড়ছে, ‘অনূর্ধ্ব উনিশ বিশ্বকাপ হয়েছিল ২০০৮-এ। তার আগের বছর নিউজিল্যান্ডে একটা অনূর্ধ্ব উনিশ টেস্ট ম্যাচ খেলছিলাম। সেই ম্যাচে কেন একটা শট খেলেছিল আমাদের এক ফাস্ট বোলারের বিরুদ্ধে। বেশ জোর ছিল বলে। তা-ও মেরে দিয়েছিল ব্যাকফুটে। স্লিপে দাঁড়িয়ে সে-দিনই এক সতীর্থকে বলেছিলাম, আমি কখনও এ রকম শট খেলতে দেখিনি কাউকে।’

যোগ করেন, ‘সব সময়ই জানতাম, কেন অন্যরকম প্রতিভাসম্পন্ন। জানতাম, ও নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলবেই। কেন খুব ভাল মানুষও।’ কিছুক্ষণ পরে উইলিয়ামসন এসে প্রশংসা ফিরিয়ে দেন, ‘বিরাট যে আবেগ আর দায়বদ্ধতা দেখায় মাঠে, সেটা সকলের কাছে উদাহরণ। ক্রিকেট খেলাটাতেই অন্য মাত্রা যোগ করেছে ও। এই খেলাটার প্রতিনিধি হিসেবে সেটা দেখে দারুণ লাগে।’

বিরাটদের প্রিয় ধোনির এটাই শেষ বিশ্বকাপ। যদি ফাইনালে উঠতে পারেন, তাহলে আর হয়তো পড়ে আছে দু’টোই ম্যাচ। ২০১১-তে ওয়াংখেড়েতে কাপ জিতে শচীন টেন্ডুলকারকে কাঁধে করে ঘুরিয়েছিলেন বিরাটরা। এ বার যদি ধোনিকে একই রকম বিদায়ী সংবর্ধনা দিতে পারেন!