আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

সিরিয়ার কুর্দিদের ওপর সামরিক হামলা চালালে তুরস্কের অর্থনীতি ‘ধ্বংস’ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সিরিয়ার কুর্দিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্কে বিরাজমান উত্তেজনার মধ্যেই তিনি রোববার এই হুমকি দেন বলে খবর দিয়েছে কাতারের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে কাজ করছে সিরিয়ার কুর্দিরা। গত মাসে ট্রাম্প আকস্মিকভাবে সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে সেখানে পরবর্তী কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তুরস্ক কুর্দিদের আক্রমণ করতে পারে এমন আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প টুইটারে লেখেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করছি। একইসঙ্গে আইএসের খিলাফতের সামান্য অবশিষ্ট অংশের ওপর জোরদার হামলা চলছে বিভিন্ন দিক থেকে।’

তিনি বলেন, ‘যদি তারা আবার উঠে দাঁড়ায়, তাহলে কাছাকাছি ঘাঁটি থেকে আবার তাদের ওপর আক্রমণ করা হবে। কুর্দিদের আঘাত করলে ধ্বংস করে দেয়া হবে তুরস্ককে।’

‘একইভাবে আমরা চাইব যে, কুর্দিরা যেন তুরস্ককে খেপিয়ে না তোলে,’ যোগ করেন ট্রাম্প।

তিনি ওই অঞ্চলে ৩০ কিলোমিটার একটি ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ এলাকা তৈরির কথাও জানিয়েছেন। তবে, এটি কোথায় তৈরি করা হবে, এর খরচ কে দেবে এবং কারা এটা চালাবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছুই জানাননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলায় তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের সমালোচনা করে আসছে।

কুর্দিশ পিপলস প্রটেকশন ইউনিটস বা ওয়াইপিজিকে তুরস্ককে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন বিবেচনা করে। কিন্তু, এটি আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহযোগী দল।

সামরিক সরঞ্জাম ফিরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। কিন্তু, সেখানে মোতায়েন দুই হাজার মার্কিন সৈন্যকে ঠিক কখন থেকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, সেটি নিরাপত্তার খাতিরে গোপন রাখা হয়েছে। আবার হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, তারা আইএসের ওপর তাদের চাপ বজায় রাখবে।