আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টের ভোট স্থগিত করেছেন। পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে ব্রেক্সিট চুক্তিটি পাস না হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকার কারণেই তেরেসা ভোট পিছিয়ে দিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে (ব্রেক্সিট) খসড়া চুক্তি যুক্তরাজ্য বাতিল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস (ইসিজে)। সোমবার ইসিজে এ সংক্রান্ত একটি রুলে জানানো হয়েছে- এ ক্ষেত্রে ইইউর অন্য ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন নেয়ারও প্রয়োজন হবে না যুক্তরাজ্যের।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র খসড়া ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোটাভুটির ঠিক একদিন আগে এ সিদ্ধান্ত জানানো হল। ইইউর অন্য সদস্যের অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাজ্য ব্রেক্সিট সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবে কি না তা জানতে চেয়ে ইসিজের রুলিং চেয়েছিলেন ব্রেক্সিটবিরোধী একদল রাজনীতিক।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এ রুল দিল ইইউ আদালত। খবর : বিবিসির।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর এমপিদের ভোটাভুটির কথাছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে তেরেসার প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দেবেন অধিকাংশ সংসদ সদস্য। এমনটা হলে ভোটাভুটির ২১ দিনের মধ্যে বিকল্প প্রক্রিয়া জানাতে হবে তেরেসাকে। সে ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত চুক্তির প্রতি অটল থাকা, চুক্তির সংস্কার, পুনরায় গণভোট ও ব্রেক্সিট বাতিলের মতো বিকল্প পন্থা রয়েছে তেরেসার হাতে।

বেক্সিটবিরোধী রাজনীতিবিদদের একাংশ যুক্তি দেখিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের উচিত একতরফাভাবে ব্রেক্সিট স্থগিত করা। তাদের বিরোধিতা করেছে ব্রিটিশ সরকার ও ইইউ। সোমবার ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসের জারিকৃত রুলে বলা হয়েছে, একতরফাভাবেই যুক্তরাজ্য ব্রেক্সিট বাতিল করতে পারবে। যুক্তরাজ্যের সদস্যপদ সংক্রান্ত কোনো শর্ত পরিবর্তন না করেই এটা হতে পারে।

ইসিজে এক বিবৃতিতে জানায়, বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ইইউকে জানানোর পরও কোনো সদস্য রাষ্ট্র তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে। সদস্যপদ প্রত্যাহারজনিত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে কিংবা সদস্যপদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানোর পর দু’বছর পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলের সময় পাবে তারা।

যদি দুই বছরের ওই সময়সীমা বাড়ানো হয়, তবে বর্ধিত সময় পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রটি সিদ্ধান্ত বদলের সুযোগ পাবে। তবে আদালত জানিয়ে দিয়েছে সিদ্ধান্ত বদলের ক্ষেত্রে ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ’ করতে হবে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত বাতিলে পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে। অনুমোদন পাওয়ার পর তাদের ‘দ্ব্যর্থহীন ও নিঃশর্ত’ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ইইউকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

ব্রিটিশদের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে রয়েছে প্রবল ভিন্নমত। জরিপে ব্রেক্সিট গণভোট-পরবর্তী সময়ে দেশটির জনগণের মনোভাব পাল্টে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। তেমনি ব্রেক্সিটবিরোধীদের অনেকে দাবি তুলেছেন আরেকটি গণভোটের। এ কাতারে রয়েছেন তেরেসার মন্ত্রী-এমপিরাও।

ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করা নিয়ে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন দু’জন ব্রেক্সিটমন্ত্রী। তেরেসার চুক্তির বিরোধিতা করে অন্য মন্ত্রণালয়েরও কয়েকজন সরে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি মে’কে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির সংসদীয় প্রধানের পদ থেকে সরাতে আস্থা ভোটের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন দলটির বেশ কয়েকজন এমপি। ৪৮ জন দাবি করলেই ডাকা হবে আস্থা ভোট।