আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: সিরিয়ার সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সিরিয়ায় নতুন করে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালাবে। এজন্য তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে।

সিরিয়ার দুমা শহরে গত সপ্তাহে চালানো রাসায়নিক হামলায় ৮০ জন নিহত হন। এজন্য দেশটির সরকারকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এর জের ধরে এই তিন দেশ শনিবার সকালে সিরিয়ায় একযোগে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, আসাদ সরকারের রাসায়নিক অস্ত্রের কেন্দ্রগুলোতেই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিয়া বলেছে, বিদ্রোহীদের মদদে এ হামলা হয়েছে। এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে হামলার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে রাশিয়া। তবে প্রস্তাবটি ১৩-২ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে কেবল বলিভিয়া ও চীন।

তবে ত্রিদেশীয় এ হামলাকে সামরিক আগ্রাসন বলে আখ্যা দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এই হামলা সিরিয়ার মানবিক সঙ্কট বাড়াবে। পুতিন কড়া ভাষায় আমেরিকা আর পশ্চিমা দেশগুলোর আগ্রাসনের নিন্দা করলেও সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের কথা বলেননি।

রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক সংস্থার (ওপিসিডব্লিউ) পরিদর্শকরা এখন দামেস্কে অবস্থান করছেন। এ সপ্তাহের শেষে তাদের দুমায় যাওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। এতে বলা হয়, দুমার ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের তীব্র ঘৃণার প্রকাশ।

তবে জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হেলি বলেছেন, সিরিয়ার ওপর এ হামলা ন্যায়সংগত ও যথাযথ। তিনি বলেন, আমি সকালে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, সিরিয়ায় আবারও রাসায়রিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্র লকড অ্যান্ড লোডেড (প্রস্তুত) রয়েছে।

আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো জানিয়েছেন, দুমায় রাসায়নিক হামলা চালানোর পক্ষে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ করে সিরিয়ার হামলার যৌক্তিকতাও তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘে সিরিয়ার দূত বাশার জাফারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স প্রকৃতপক্ষে মিথ্যাবাদী ও ভণ্ড, তারা তাদের আগ্রাসী ঔপনিবেশিক নীতি বাস্তবায়নে জাতিসংঘকে ব্যবহার করছে।

তবে এ হামলার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, সিরিয়ায় হামলার আগে পার্লামেন্টের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল মে’র। সূত্র: বিবিসি রয়টার্স।