আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমার সফরে দেশটির রাজধানী নেইপিডোতে পৌঁছেছেন। সে দেশের সেনাবাহিনীর প্রধানের সাথে টিলারসন সাক্ষাত করবেন। রোহিঙ্গা সংকট শুরু হবার পর এত উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন র্কমর্কতার সেদেশে এটাই প্রথম সফর। সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, মিস্টার টিলারসন এই বৈঠকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করে তাদেরকে দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য চাপ দেবেন।

এছাড়াও মঙ্গলবার টিলারসন ম্যানিলাতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সাথেও বৈঠক করেছেন। এই দুটি বৈঠক কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন পে স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. তাজ হাশমির কাছে।

আগস্টের শেষদিকে যখন ঘটনাটা শুরু হলো তখন দেখা যাচ্ছিল যে চীন, রাশিয়া, ভারত সবাই মিয়ানমারকে সর্মথন করছে। আমেরিকান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপ তখন চুপচাপ হাত পা গুটিয়ে বসে ছিল। মনে হচ্ছিল। কিন্তু এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে, সিনেটে এবং কিছুদিন আগে ওদের অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি স্টেট সাইমুন হ্যাংশো এসেছিলেন ঢাকাতে, তারা সবাই বলছেন এক বাক্যে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়াটাই একমাত্র সমাধান। সুতরাং এখন ওটারই একটা জের চলছে। টিলারসন দেখা করেছেন সু চির সঙ্গে। তারপরে এখন মিয়ানমারে টিলারসন আর্মির প্রধানের সঙ্গে দেখা করবেন। একধরনের চাপ প্রয়োগ করা হবে এটাতো প্রতীয়মান হচ্ছে। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখানে একেবারে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে না।

মিয়ানমার এখন মার্কিনের চাপকে কতটা গুরুত্ব দিবেন?

হাশমি বলেন, সু চি যখন বন্দি ছিলেন এবং সু চিকে নিয়ে সারা বিশ্বে যখন হৈ চৈ হচ্ছিল তখন প্যাসিফিক কমান্ডের অফিসাররা, আমেরিকান ফ্লিট, প্রথমে মিয়ানমার সফর করেন ২০০৯ বা ২০১০ সালের দিকে। তারপর ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে একধরনের কম্প্রোমাইজের মাধ্যমে তারা সু চিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আমেরিকার চাপের ফলেই এটা সম্ভবপর হয়েছিল। সুতরাং এখন যদি বিশ্বে বাজারের দিকটা দেখেন যুক্তরাষ্ট্র, মিয়ানমারে চীনকে একচ্ছত্র আধিপত্য দেবে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

সুতরাং টিলারসনের সফর ও তার সঙ্গে এই দুটি বৈঠক সংকট সমাধানের পথে কতটা অগ্রগতি করতে পারে?

প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, জাপান সরকারও রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করার জন্যে মিয়ানমারকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বেরও একটা প্রচন্ড চাপ রয়েছে মিয়ানমারের ওপর। জন ম্যাককেইন খুবই ক্ষমতাধর একজন আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান, উনিও এই বিষয়ে উদ্যোক্তা হয়েছেন প্রধানত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করতে হবে। একটা বিল তারা ইতিমধ্যে কংগ্রেসে নিয়ে আসছেন। এসব দেখেই মনে হচ্ছে, যদিও মিয়ানমারকে চাপ দেয়া হবে কি না এ প্রশ্ন উনি টিলারসন এড়িয়ে গেছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে এটা প্রতীয়মান হচ্ছে যে তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ করার কোনো ক্ষমতা নেই, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি মনে করি না।

এর বাইরে বাংলাদেশের আর্ন্তজাতিক ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আর কোনো উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না?

তিনি বলেন, তা সময়ই বলে দিবে। মার্কিন যুক্তরাষ্টের চাপের ফলে গত তিনমাসে যে ছয় লাখ রোহিঙ্গা এসেছে তাদের সবাইকে ফিরিয়ে নেবে কিনা। মিয়ানমার বলছে, যারা তাদের নাগরিক তাদেরকে ফিরিয়ে নেবে। আমেরিকা, জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বের কেউ, জাপান এটা সর্মথন করছে না। চীনও এ ব্যাপারে রা করছে না। চীন বলে নি যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া যাবে না।

চীন ও ভারতেরও একটা জিও পলিটিক্যাল স্বার্থ রয়েছে। ভারতবর্ষেরও রয়েছে। মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের যে খনিজ সম্পদের প্রতি আমেরিকানদেরও একটা স্বার্থ রয়েছে তারা এটাকে ছেড়ে দেবে তা মনে করার কোনো কারণ দেখছি না।