আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: যারা যৌন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন শত শত নারী হলিউডে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ মিছিলের নেতৃত্ব দেন তারা তারানা বুর্ক, যিনি সুচনা করেছিলেন মি টু প্রচারণার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ মিছিলে যৌন হয়রানির শিকার নারীরা ছাড়াও আরও অনেকে অংশ নিয়ে তাদের প্রতি একাত্মতা জানান। মিছিলে বেশ কিছু পুরুষকেও দেখা গেছে।

সম্প্রতি হলিউডের বেশ কয়েকজন নায়িকা বলেছেন অস্কারজয়ী প্রযোজক হার্ভি ওয়েনস্টেইনের কাছে কী ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হন।

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘মি টু’ হ্যাশ ট্যাগে অনেক নারী-পুরুষ জানান কীভাবে তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অর্থাৎ ইন্টারনেট থেকে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ গড়িয়ে পড়ল হলিউডের রাস্তায়। তাদের হাতে যৌন নির্যাতনে প্রতিবাদ সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার শোভা পায়। দৃষ্টি কাড়া শ্লোগান ও আবেদনপূর্ণ বক্তব্য ছিল এসব ব্যানারে। এমনকি শিশুরাও এ মিছিলে অংশ নিয়েছে। একটি ব্যানারে লেখা ছিল ‘নারীদের বিশ্বাস কর’, আরেকটিতে,‘আমিও নির্যাতনের শিকার’, অন্যটিতে,‘নিরবতা ও ইতস্ততা ভেঙ্গে প্রতিবাদের আহবান ইত্যাদি। এ মিছিলটি বিভিন্ন সেক্স শপ বা পতিতালয়ের পাশ দিয়ে, স্ট্রিপ ক্লাবের সামনে দিয়ে পর্যটকদের অবস্থানগুলোর দিকে এগিয়ে যায়। ডলবি থিয়েটার ভবন যেখানে এ্যাকাডেমি এ্যাওয়ার্ড দেয়া হয় সেখানেও মিছিলটি অনেকের নজর কাড়ে। মিছিলে অংশ নেওয়া একজন পুরুষের গায়ে টিসার্টে লেখা ছিল, ‘হুইস্কি মেড মি ডু ইট’। বিক্ষোভকারীরা শ্লোগান দিতে থাকে, ‘নট ইট পটস, নট ইন প্লান্টস, কিপ ইওর জাঙ্ক ইনসাইড ইওর প্যান্টস,’ এমন সংযত হওয়ার আহবান জানানোর পাশাপাশি তারা এ শ্লোগান দেয়, হার্ভে ওয়েস্টেইন একটি কৌতুক, নারী শ্রমিকরা জেগে ওঠ’। অন্যরা এসময় ধ্বনি তোলেন ‘সারভাইভরস ইউনাইটেড, উই উইল নেভার বি ডিভাইডেড’ বা ‘ যা আমরা পরিধান করি, যেখানেই যাই, হ্যা মানে হ্যা এবং না মানে না’।

কেউ কেউ তাদের পরিবারের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন। কেউবা বন্ধুর সঙ্গে। ৪ বছরের শিশু থেকে ৬৮ বছরের বয়স্করা এ মিছিলে প্রতিবাদ জানান। লস এ্যাঞ্জেলেস স্কুলের ছাত্রী ১৫ বছরের এইসলিন রাসেল আসেন ভাইবোনকে নিয়ে। নিজে যৌন হয়রানির কথা শিকার করে বলেন, নিশ্চুপ না থেকে সবাইকে প্রতিবাদের আহবান জানাচ্ছি। ৫২ বছরের ন্যান্সি এ্যালেন তার হাতে প্লাকার্ডে লেখা দেখান, ‘আই ওয়াজ সেভেন’। এ্যালেন বলেন অনেকদিন আমরা চুপ থেকেছি আর নয়, বছরের পর বছর এমন অনেক নির্যাতিতা নিশ্চুপ হয়ে আছে, তাদের বের হয়ে আসা দরকার। সরব হয়ে ওঠাও প্রয়োজন।

এভাবে মিছিলটি একসময় সানসেট বোলিভার্ড, কোল ও সিএনএন সদর দপ্তর অতিক্রম করে শেষ হয়। সেখানে এক সমাবেশে সিওম্যান যিনি চলচ্চিত্রে নারীদের একটি এডভোকেসি ফোরাম পরিচালনা করেন, তিনি বলেন, যৌন হয়রানির জন্যে কেবল যৌন অপরাধীদের দায়ী করা যায় না এ অপরাধ কুসংস্কার ও অপব্যবহারের মধ্যেও সুরক্ষিত রয়ে গেছে।