ই-কণ্ঠ ডেস্ক::

ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইভাবে তার সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ডিজির পাশাপাশি ইফার আরও ৯ কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব চেয়েছে তারা। এরই মধ্যে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নিয়েছে দুদক। এরা সবাই ইফার গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন এবং ডিজির আস্থাভাজন কর্মকর্তা। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

দুদকের নজরে পড়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন- ইফার পরিচালক (উপসচিব) জালাল আহমদ, পরিচালক (সমন্বয়) এবিএম শফিকুল ইসলাম, উপপরিচালক (পার্সো) মুহাম্মদ আজাদ আলী, সহকারী পরিচালক (পার্সো) মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) মুহাম্মদ মজিব উল্লাহ ফরহাদ, সহকারী পরিচালক (ডিজির দফতর) মো. জাকির হোসেন, সেকশন অফিসার-১ (প্রশাসন) মোহাম্মদ রিজাউল করিম এবং সাবেক পরিচালক মুহাম্মদ তাহের হোসেন ও মু. হারুনুর রশিদ।

এ প্রসঙ্গে, জানতে চেয়ে ইফার ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া দেননি। তবে ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম মঙ্গলবার জানান, ‘ইফার ১০ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবসহ সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক।

এরই মধ্যে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমীর হোসেন ইফার কার্যালয়ে এসে তথ্য-উপাত্ত চেয়েছেন। আমরা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তাদের প্রশাসনিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

জানতে চাইলে দুদক সহকারী পরিচালক মো. আমীর হোসেন মঙ্গলবার বলেন, ‘সম্প্রতি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কিছু কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগটি দুদকের সংশ্লিষ্ট কমিটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সে অনুযায়ী তাদের তথ্য-উপাত্ত অনুসন্ধান করতে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইফার কার্যালয়ে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। অনেকের তথ্য না পাওয়ায় সেগুলো চেয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে ইফা পরিচালক (উপসচিব) জালাল আহমদ বলেন, ‘আমার কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি পাবে না দুদক। আমিও শুনেছি দুদক আমার তথ্য চেয়েছে। দুদক দেখুক, অনুসন্ধান করুক। এ নিয়ে আমার কোনো কথা নেই।’ দুদক তার এনআইডি নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়েছে স্বীকার করে ইফার সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) মুহাম্মদ মজিব উল্লাহ ফরহাদ বলেন, ‘আমি ছিলাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রিপন-রোটন কমিটির উপগ্রন্থনাবিষয়ক সম্পাদক। দুদকের অভিযোগে আমাকে ‘দুর্র্ধষ শিবির ক্যাডার’ বানানো হয়েছে। আমি সরকারি চাকরি করি। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।’

জানা গেছে, সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির নায়কদের সঙ্গে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের তালিকায় ইফার ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের নামও চলে আসে। এ কারণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক সার্কুলারে তার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয় বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রেরিত পত্রে সামীম মোহাম্মদ আফজাল পিতা- মৃত আবদুর রশিদ, মাতা- মৃত আমেনা খাতুন, জাতীয় পরিচয়পত্র নং-১৯৫৭২৬৯৫০৪২৭৮ ৪৫৩১, জন্ম তারিখ ৩১/১২/১৯৫৭, পাসপোর্ট নং বিজি ০০০৯৭৬০-এর ব্যাংক হিসাব এবং অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে সবকটি তফসিলি ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পত্র প্রেরণ করা হয়।

সাবেক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা সামীম মোহাম্মদ আফজাল ১১ বছর ধরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। চাকরির বয়স শেষে ২ দফায় তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। দীর্ঘদিন তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে শতাধিক আত্মীয়স্বজন নিয়োগের মাধ্যমে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত ইমামদের সামনে ব্যালে নৃত্য ও কাঙ্গালিনী সুফিয়ার গান আয়োজনসহ বিভিন্ন অনৈসলামিক কার্যকলাপেরও অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দুদক। ১০ জুন ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ইফা ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়।

তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন অবহিত করা হবে না। এরপর ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের সভা থেকে ডিজির পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হলেও আগামী ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বপদেই বহাল রয়েছেন তিনি। এবার ডিজির পাশাপাশি তার আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের সম্পদ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে দুদক।