অনলাইন ডেস্ক::

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) দুটি ইউনিটি। একটি কন্ট্রোল ইউনিট, অন্যটি ব্যালট ইউনিট। এর মধ্যে ব্যালট ইউনিটটি অরক্ষিত। কন্ট্রোল ইউনিটে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিংয়ের পর ব্যালট ইউনিটে গিয়ে একজনের ভোট দিতে পারেন অন্যজন। কেননা, কন্ট্রোল ইউনিটে ফিঙ্গারের ব্যবস্থা থাকলেও ব্যালট ইউনিটে তা নেই।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ইভিএম প্রদর্শনীতে এই ত্রুটি শনাক্ত করেন সাংবাদিকেরা।

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইভিএম প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা যন্ত্রটির নানা খুঁটিনাটি ব্যাখ্যা সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীরা ইভিএম যন্ত্রে ডেমো ভোটে আংশ নেন।

সাংবাদিকেরা ইসির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দেখিয়ে দেন ইভিএমে কীভাবে একজনের ভোট অন্যজন দিতে পারেন। দেখা গেছে, একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ইভিএম মেশিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। আর ব্যালটের মতো ভোটকক্ষে উপস্থিত থাকেন বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্টরা। একজন ভোটার ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, স্মার্টকার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দ্বারা কন্ট্রোল ইউনিটে ভোটার শনাক্তের পর তাকে ভোটদানের জন্য বিবেচনা করা হয়। এই সময়ে ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার বা প্রভাবশালী প্রার্থীর এজেন্ট অনেক ক্ষেত্রে ব্যালট ইউনিটে পছন্দের প্রতীকে চাপ দিয়ে কনফার্ম বাটন চাপার সুযোগ পান। ভোটারকে ভোটদান থেকে ফিরে আসতে হয়।

প্রদর্শনীতে কর্মকর্তারা দাবি করেন, ইভিএম মেশিনে জাল ভোট দেয়া যায় না। তখন কয়েকজন সাংবাদিক কয়েকটি নির্বাচনের উদাহরণ টেনে প্রশ্ন করেন, ভোটারদের আঙুলের ছাপ নিয়ে ব্যালট ইউনিট সচল করার পর তাকে ভোট দিতে না দিয়ে অন্য কেউ ঐ ভোট দিয়ে দিলে তা ঠেকানোর কোনো উপায় আছে কি না?

এর জবাবে ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তবে ব্যালট ইউনিটে আঙুলের ছাপ নেয়ার পদ্ধতি নেই। সূত্র: ইত্তেফাক