দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
ধানক্ষেতে আক্রান্ত পোকা-মাকড় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জনপ্রিয় একটি পদ্ধতির নাম আলোক ফাঁদ। আর এই আলোক ফাঁদের ব্যবহার এখন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পরিবেশ বান্ধব এই পদ্ধতির সাহায্যে বর্তমানে উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ৩৬টি ব্লকে কৃষি অফিসের উদ্যোগে ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগিতায় সন্ধ্যায় আমন ফসলের ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য এই আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ও ধান ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষনে ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের বড়গ্রাম গ্রামের জনৈক কৃষকের ধানক্ষেতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান উপস্থিত থেকে একযোগে বিভিন্ন ইউনিয়নে আলোক ফাঁদ পদ্ধতির ব্যবহারের উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীসহ কৃষকবৃন্দ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ধানক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধান ক্ষেতের আইলে কোথাও পানি ভর্তি পাত্রে, কোথাও কাগজের উপড় আলো জ্বালিয়ে আক্রমনাত্বক বিভিন্ন পোকা ধরছেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা নিজেই পোকা নিরুপন করে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারছেন। এতে করে পোকার আক্রমনের আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারছেন। আলোক ফাঁদের এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এলাকার অনেক কৃষক জমিতে প্রয়োজনীয় ও পরিমানমত কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকদের খরচ অনেকটাই কমে আসছে এবং ধানের উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক জাকির, ফজলুর রহমান ও নশরতপুর গ্রামের কৃষক রহিদুল, সাইদুর, নজরুল, রাজ্জাক, বেলাল জানান, তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেক উপকৃত হয়েছে। সহজ লভ্য হওয়ায় খুব সহজেই ক্ষেতের পোকামাকড় গুলো নিধন করতে পারছেন। পোকামাকড়ের উপস্থিতি চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, এটি একটি সহজলভ্য পদ্ধতি। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজেই ধানের খেতে পোকা-মাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। অপরদিকে কম খরচে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ মৎস্য সম্পদের বংশ বিস্তারে তেমন কোন বাধার প্রভাব না পড়ায় মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।