দেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা॥ অধিক মুনাফার আশায় যখন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষকরা রসুন চাষে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ঠিক তখনি বাজার দর যেন তাদের সেই আশায় গুড়ে বালি ছিটিয়ে দিল। কারন গত বছরে উত্তোলন মৌসুমে যে রসুন ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো এ বছর একই মৌসুমে সে রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে। যা উৎপাদন খরচের চেয়ে তিনগুন লোকশান। বর্তমানে উপজেলার রসুনের মাঠ গুলো দেখে মনে হচ্ছে কোন উৎসব শুরু হয়েছে। দিগন্ত মাঠে শুধুই রসুন উত্তোলন শ্রমিক। কেউ উত্তোলন করছে, কেউবা রসুনের গাছ কাটছে, আবার কেউ রসুন শুকানো হলে বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বস্তা করছে। কোন ধরনের ধম ফেলার সুযোগ নেই চাষি ও শ্রমিকদের। এমনকি বহিরাগত মহিলা শ্রমিক এসে মেটাচ্ছেন রসুর উত্তোলনের চাহিদা। চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা, বিন্যাকুড়ি, নশরতপুর, ফতেজংপুর, সাইতাড়া, আলোকডিহি তেতুঁলিয়া ও ভিয়াইল গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমের শুরুতে রসুনের দাম ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ দরপতন হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। বর্তমানে প্রতি বস্তা রসুন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮’শ টাকা দরে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে রসুনের ভালো দাম যাওয়ায় এ বছর রেকর্ড পরিমান জমিতে রসুনের চাষাবাদ করা হয়েছে। এ বছর ৩ শত ৪৭ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রসুন চাষ হয়েছে ৬ শত ৮০ হেক্টর জমিতে। যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। কৃষকের পাশাপাশি অনেক দিনমজুর রসুন চাষ করেছেন বেশী লাভের আশায়। এমনকি এ বছর অনেক কৃষক এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋন নিয়ে করে রসুন চাষ করেছে। রসুন চাষী মোসলেম উদ্দিন জানান, এক একর জমিতে রসুন চাষে বীজ, সার, বপন, হাল চাষ, নিড়ানী ও অন্যান্য খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, উৎপাদন হয়েছে একর প্রতি প্রায় ১৪০ মণ। যার বর্তমান বাজার মূল্য মাত্র ৫৬ হাজার টাকা। উৎপাদন ও আনুসাঙ্গিক খরচ দিয়ে ক্ষতির পরিমান প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকার মত।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষি শস্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে বৃহত্তর চিরিরবন্দর উপজেলা। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রসুনক্ষেতে কোন ধরনের ইনজুরি কিংবা অন্যান্য রোগের আক্রমণ কম হওয়ায় ফলন বেশী হলেও গত বছরের তুলনায় রসুনের দাম এ বছর অনেক কম।