তারেক হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাঁকুরগাওয়ে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান ও সবজি চাষিরা ঘুরে দাড়াচ্ছে। নিজ উদ্যোগ ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় তাদের ফসলি জমি এখন সবুজের সমারহে রুপ নিয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছেন চলতি মৌসুমে বন্যায় কৃষকেরা ক্ষতির শিকার হলেও তারা ঘুরে দাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি, ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ, হরিপুর, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও সদর উপজেলার শত শত গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার কারনে ঘড়বাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে আবাদি ফসলের। এসময় আমন ধান রোপনের মাস খানেক মাত্র ফলে কৃষক ক্ষতির শিকার হয় বেশি। টাকা কয়েকদিন পানির নিচে ধান গাছের চারা ও শাক সবজি তলিয়ে থাকায় পচে নষ্ট হয়ে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৩ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। আর শাক সবজির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আগেই বন্যার কারনে জেলায় ৭ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমির ধানের চারা ও ৯৭ হেক্টর জমির শাক সবজি নষ্ট হয়। বন্যা কেটে যাওয়ার পর কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকে ৭ হেক্টর জমির চারা ৫৪০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়।

সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের বটতলী গ্রামের অবিনাস চন্দ্র জানান, আমরা কেউ ধানের চারা পাইনি। কিছু জমির ধান গাছ নস্ট হলেও তা কিছুদিন পর আবার নতুন করে গাছগুলো সতে হয়েছে। সাধারন ধান গাছের চেয়ে কম ফলন হবে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, আমার ১৭ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে ছিলাম কৃষি বিভাগের দেয়া বিনামুল্যে চারা পেয়ে বেশি কিছু জমিতে নতুন করে রোপন করেছি আর আগের রোপন করা চারা বেশিরভাগ ভাল ছিল। সব মিলিয়ে বন্যায় ডুবে থাকা ধানের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। তবে ফলন কম হতে পারে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাউদুদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৩ হেক্টর জমিতে। আর আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে। বন্যায় ক্ষতি হলেও পুনরায় ধান রোপনের কারনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আমরা আশা করছি ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পুরন হবে। তবে শাক সবজিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে।