ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: হাইড্রোফনিক্স হলো এমন একটি বিশেষ পদ্ধতি যেখানে মাটি ছাড়া অন্য যে কোনো মাধ্যমে সবজি বা ফসল উৎপাদন করা হয়। এ পদ্ধতিতে চাষের জন্য গাছের ১৬টি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী একটি দ্রবণ তৈরি করেছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান।

তিনি জানান, উদ্ভাবিত এ দ্রবণটি ব্যবহার করলে সাধারণ অবস্থার চেয়ে প্রায় ৮ থেকে১০ গুণ বেশি ফলন পাওয়া যাবে।

মঙ্গলবার (২৭ র্মাচ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তিন তলায় সেমিনার কক্ষে ‘বাংলাদেশে টেকসই হাইড্রোফনিক্স ফসল উৎপাদন প্রযুক্তি’ শীর্ষক একটি সেমিনারে তিনি এ কখা বলেন।

Sekribi-2

কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন এতে সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অনোয়ারুল হক বেগ।এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাইড্রোফনিক্স চাষীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘উদ্ভাবিত পুষ্টি দ্রবণ ব্যবহার করে টমেটো, ক্যাপসিকাম, মরিচ, করলা, লেটুশ, শশা, কলা, ঢেঁড়স ও বিভিন্ন শাকসবজির ফলন মাঠের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে আমাদের গবেষণায়। এ পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে স্বল্প খরচে ব্যয়বহুল সবজি উৎপাদন সম্ভব হবে।

Sekribi-3

বিশিষ্ট হাইড্রোফনিক্স গবেষক ড. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘হাইড্রোফনিক্স পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন খুবই লাভজনক একটি প্রক্রিয়া। তবে হাইড্রোফনিক্স পদ্ধতিতে চাষের উপযোগী একটি কাঠামো তৈরি কিছুটা ব্যয়বহুল। ২০টি গাছ চাষ করা যাবে এমন কাঠামো দাঁড় করাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হবে। তবে, এসব কাঠামো আনুমানিক প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। অপরদিকে ফলনও অনেক বেশি হয়।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, হাইড্রোফনিক্স নিয়ে তার এ গবেষণা নিশ্চয়ই প্রশংসনীয়। আরও উন্নত গবেষণার জন্য শেকৃবিতে একটি অত্যাধুনিক ল্যাব নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও প্রদান করা হবে উন্নততর গবেষণার জন্য।