নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কোনভাবেই যখন খাদ্যে ভেজাল ও বিষের ব্যাপকতা রোধ করা যাচ্ছে না। দুধ, শাক-সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস, সব ধরণের ফলমূল এমনকি শিশুদের খাবারেও পাওয়া যাচ্ছে স্বাস্থ্যহানিকর নানা রাসায়নিকের মিশ্রণ। ঠিক সেই সময়ে দেশবাসী ও গ্রামের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে, ড. মোঃ শামছুদ্দোহা খন্দকার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা গ্রামে নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন নিরাপদ ও ভেজাল মুক্ত খাদ্য তৈরীতে। নিরলস পরিশ্রম করছেন রাত দিন। “সুস্থ্য জাতি গঠনে বিশুদ্ধ খ্যাদ্যের বিকল্প নেই” এই স্বপ্নকে ধারন করে সাম্প্রতিক সময়ে তিনিই প্রথম দেশে গম থেকে বিশুদ্ধ গো-খ্যাদ্য ঘাস উৎপাদন করেছেন।

যাতে ভেজাল ও বিষের কোন ব্যাপকতা নেই বললেই চলে। মাটি, সার ও কিটনাশক ছাড়াই পানি ও বিদ্যুতের আলোর সাহায্যে এই ঘাস উৎপাদন করেছেন তিনি। দেশে সরকারীভাবে এই ঘাস উৎপাদনের চেষ্টা চলছে বহুদিন। তার উৎপাদিত ঘাস সর্ম্পকে বলেন, আমি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিওটিএর চেয়ারম্যান থাকা কালিন অবস্থায় কিভাবে এই ঘাস উৎপাদন করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করেছি। সরকারী চাকরী থেকে অবসরে আসার পর গ্রামে বসে ভেবেছি আমরা, যুগ যুগ ধরে ঘাস হিসেবে আমরা গাভীকে যে ঘাস খাওয়াচ্ছি, বর্তমান সময়ে জমিতে সার ও কিটনাশক ব্যবহারের কারনে সেই ঘাস” এখন আর গো-খাদ্য হিসেবে নিরাপদ নয়” বিশুদ্ধ দুধ ও মাংস পেতে হলে আমাদের প্রথমে গরুকে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাদ্য খাওয়াতে হবে। কারন

দেশে এখন কৃষিজমির মাটি সার ও কিটনাশক, ক্রিমির জার্ম-সহ এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত। ফলে কৃষিজমির মাটিতে উৎপাদিত ঘাস বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হছে। আমরা নিরাপদ দুধ, মাংস, থেকে বঞ্চিত হচ্ছি সেই দিকটা চিন্তা করে আমি মাটি, সার, কিটনাশক ছাড়াই এই নিরাপদ গো খাদ্য উৎপাদন করেছি। মাত্র ১ কেজি গমে ৮ থেকে ১০ কেজি ঘাস উৎপাদন সম্ভব। ঘাষের শিকরেও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন। যেকোন গবাদি পশু হাস, মুরগি ও গরু খেতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, আমি চাই গ্রামের মানুষ যেন নিরাপদ খাদ্য পায়।সেই লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ নবাবগঞ্জ শাখার আর্থিক সহায়তায় উপজেলার কলাকোপা গ্রামে গড়ে তুলেছেন অর্গানিক এগ্রো ফার্ম। যা দেশের একমাত্র আর্দশ দুগ্ধ খামার। ইউরোপের ডেনমার্ক, অষ্ট্রেলিয়াসহ আমেরিকার মতো উন্নত রাষ্ট্র থেকে আমদানীকরা পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতের গাভী থেকে প্রতিদিন ১ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়। যা প্রতি লিটার মাত্র ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত এই সেবা পাচ্ছেন বলে এলাকাবাসী জানায়। পাশে গড়ে তুলেছেন ক্লাসিক মিল্ক এন্ড সুইটস্ নামের একটি মিষ্টির দোকান। নিজস্ব ফার্মের গাভী থেকে উৎপাদিত দুধের ছানা থেকে তৈরী হয় বিভিন্ন ধরনের রসালো মিষ্টি।