মো. সাদের হোসেন বুলু নবাবগঞ্জ থেকে॥ ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে কৃষি জমিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জনবসতি স্থাপনের ফলে কৃষি জমির বিপর্জয় দেখা দিচ্ছে। ফসল উৎপাদন কমতে থাকায় কৃষকের জীবন-জীবিকাও এখন হুমকির মূখে। কৃষক উদ্বিগ্ন ও শংকায় দিন রাত পার করছেন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্র মতে, বাংলাদেশের চাষযোগ্য জমি রয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর আর ২,৫৬,১৭৫ জন ভোটার অধ্যুষিত নবাবগঞ্জের ১৪টি ইউনিয়নে কৃষি জমির পরিমাণ মাত্র ১৭,৭৮৪, হেক্টর। অধিকাংশ কৃষকের দাবী, অপরিকল্পিত জমির ব্যবহার ও জনবসতির ভয়াল গ্রাসে আবাদী কৃষি জমির বিপর্জয়ের কারন বলে মনে করছেন এই অঞ্চলের কৃষক সমাজ। বর্তমান সময়ে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় আবাদি কৃষি জমির পাশেই আধুনিক দালান কোঠা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মোবাইল টাওয়ার, ইটভাটা, বসতবাড়ি ও পুকুর খনন করার মাধ্যমে কৃষিতে বিপর্জয় তৈরী করা হচ্ছে। যার ফলে কৃষি জমির পাশাপাশি ফসল উৎপাদনও কমতে শুরু করেছে।

আগলা টিকরপুর এলাকার বাসিন্দা জাতীয় কৃষক সমিতির নেতা কমরেড, মো. আসলাম খাঁন বলেন, এমনিতেই ভেজাল বীজ ও সারের কারনে ফসল উৎপাদন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। কিছু কিছু অঞ্চলে কৃষি জমির ফয়েল কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে নদীর তীরবর্তী জমির মাটি বিক্রি করা এখন দোহার ও নবাবগঞ্জে সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। যার ফলে কৃষিতে বিপর্জয় দেখা দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সাথে সঙ্গে জড়িত। এ তিন-চতুর্থাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা চলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষি বিপণন প্রক্রিয়ায়।

কালীগংঙ্গা ও ইছামতির পারে গড়ে উঠা কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলের প্রাণ নদী দুইটির ও বেহাল দশা চলছে বহু দিন। নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে বহু কৃষি জমি ইতিমধ্যে নদী চলে গেছে। বিলিন হয়েছে বসত বাড়ি। উপজেলার কৈলাইল ও শোল্লার জনসাধারণ সবচেয়ে বেশী জমি হারিয়েছেন নদীর ভাঙনে। অপরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন ও প্রাকৃতিক বির্পযয়ের কারনে পাড়াগ্রাম, কোন্ডা, চর সিংজোর, খতিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ও হাট বাজার এখন হুমকির মূখে সম্প্রতি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন কৃষি জমি।

কৃষি জমি সুরক্ষা আইনের বলা হয়েছে কৃষি জমিতে আবাসন, শিল্পকারখানা, ইটভাটা বা অন্য কোনো রকম অকৃষি স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। জমি যে ধরনেরই হোক না কেন, তা কৃষি জমি হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। দেশের যে কোনো স্থানের কৃষি জমি এ আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত হবে এবং কোনোভাবেই তা ব্যবহারে পরিবর্তন আনা যাবে না। কোনো অবস্থাতে কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেয়া যাবে না। যে কোনো ধরনের জমির শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না। আইন লঙ্ঘনকারী বা সহায়তাকারীর অনূর্ধ্ব দুই বছরের সাজা, সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ আইনের অধীনে অপরাধ আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য হবে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজস্ব কর্মকর্তা বা বন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা মামলা করতে পারবেন।

প্রশাসনের ধীর গতিতে পথ চলা নীতিকে এলাকাবাসী দায়ী বলে মনে করছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রসাসক সার্বিক(ঢাকা) মো. মজিবর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি জমি রক্ষায় আইন তৈরী করেছে যা দ্রুত কার্যকর করা হবে।