আব্দুল হানিফ মিঞা,বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর বাঘায় এবার ভূট্টার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে চরাঞ্চলের চকরাজাপুর ইউনিয়নে বেশির ভাগ কৃষকরা জমিতে ভূট্টা চাষ করেছেন। এখন আবাদি জমির ভূট্টা ঘরে তুলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা ।
সরেজমিন উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে,ক্ষেত থেকে ছড়া কেটে এনে শুকিয়ে মেশিনে মাড়াই করে ঘরে তোলা শুরু করেছেন কৃষকরা। বাড়ির উঠানে,খৈলানে শোভা পাচ্ছে হলুদ রঙের ভুট্রা।
কৃষকরা জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকি কম। কারণ ভুট্টায় রোগ-বালাই খুব কম হয়। এছাড়া সেচ, কীটনাশকসহ সারের ব্যবহারও কম। লাগানো থেকে শুরু করে ৫ মাসের মধ্যে ভুট্টার ফসল পাওয়া যায়। খরচা বাদে লাভ থাকে বেশি। বাজার ভাল হলে ভালও বেশি হয়। সহজে আবাদযোগ্য এবং অধিক লাভজনক হওয়ায় ভূট্টা চাষে বেশি আগ্রহী তারা। এ ছাড়া ভুট্টার কিছু অংশ গোখাদ্য আর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় ভুট্টাচাষে বেশি আগ্রহী তারা।

পলাশিফতেপুর গ্রামের কৃষক হাফিজুর জানান,গত বছর এক বিঘা জমিতে মসুর আবাদ করে উৎপাদন হয়েছিল ১মণ। সেখানে ভুট্টার আবাদ করে বিঘায় উৎপাদন হয়েছে পঁয়ত্রিশ মণ। প্রতিমণ ভুট্টার দাম পাচ্ছেন ৭’শ আশি টাকা। সে হিসেবে বিঘায় পাচ্ছেন সাতাশ হাজার ৩’শটাকা। বিঘায় খরচ হয়েছে ৬হাজার টাকা। চৈত্র মাসে ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতি না হলে এবার ফলন আরো বেশি হতো। দাদপুর গ্রামের আব্দুল মালেক সেখ জানান,তার এলাকায় কহিনুর জাতের ভুট্টার আবাদ বেশি হয়েছে। এছাড়াও এলিটসহ অন্য জাতের হাইব্রিট ভুট্টাও আবাদ হয়েছে। এবছর যেহারে ফলন হচ্ছে, তাতে দেড় বিঘায় তিপান্ন মণ ভুট্টা পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সব ইউনিয়নে কম বেশি ভুট্টার আবাদ হয়েছে। তবে চরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে বেশি। সব মিলে উপজেলায় এবার ভুট্টার আবাদ হয়েছে,১’শ ৭৫ হেক্টর জমিতে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাবিনা বেগম জানান, অন্য ফসলের তুলনায় ভূট্টা চাষে খরচ কম এবং অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়া যায়। বর্তমান সরকার কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করায় প্রতি বছর ভূট্টা চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবছর ভূট্টা চাষ হয়েছে বেশি। কৃষি অফিসের ব্লক সুপারভাইজাররা কৃষকদের সার্বক্ষনিক ঠিক ঠিক মত পরামর্শ দিয়েছেন। যেভাবে ভুট্টা চাষ হয়েছে এতে করে কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন এই কৃষি অফিসার।