ডি এইচ দিলসান, যশোর থেকে : চলতি মৌসুমে যশোরে লক্ষমাত্রার চাইতে অর্ধেকেরও কম জমিতে আবাদ হয়েছে মসুর ডাল। অন্যদিকে গোড়াপচা রোগে ফলন হয়েছে কম। এছাড়া বাজারে মসুর ডালের দাম কম থাকায় মাথায় হাত উঠেছে ডাল চাষীদের।
যশোর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে এবার ১৭ হাজার ৮শ ৬২ হেক্টর জমিতে সমুর ডালের আবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিলো। কিন্তু আবাদ হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯শ ৫ হেক্টর জমিতে।
গত বছর আবাদ হয়েছিল ১৭ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে। এর আগে গত ২০১৬ মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে মসুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়, তার আগের বছর আবাদ হয়েছিল ১৯ হাজার ১৯৬ হেক্টর জমিতে।
এ বছর যশোর সদর উপজেলাতে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১শ ৯৫ হেক্টর জমিতে, শার্শা উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৭শ ২০ হ্কেটর জমিতে, মনিরামপুর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫শ ৮০ হেক্টর জমিতে, কেশবপুর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২শ ৫০ হেক্টর জমিতে, অভয়নগর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৮৫ হেক্টর জমিতে, চেীগাছা উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৯শ ৫ হেক্টর জমিতে, ঝিকরগাছা উপজেলায় আবাদ হয়েছে ১৩শ হেক্টর জমিতে, এবং বাঘারপাড়া উপজেলায় আবাদ হয়েছে ১ হাজার ১শ ২৫ হেক্টর জমিতে।
এ ব্যাপারে কথা হয় যশোরের ভেকুটিয়া এলাকার চাষী রাশেদের সাথে, তিনি বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে মসুর চাষ করেছিলাম, বিজ বোনার সময় অতীবৃষ্টির কারনে একটি নিচু জমি হওয়ায় আমার ১ বিঘা জমির চারা কম উঠায় আমি ওই জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। এছাড়া তিনি আরো বলেন, যে এক বিঘা জমিতে মসুর ছিলো তার ফলনও ভালো হয়নি।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, মসুর ডাল বপনের সময় অতীবৃষ্টির কারণে জমিতে জো না থাকায় চারা মারা যাওয়াসহ বীজ উপ্ত কম হয় যার কারনে আবাদ কম হয়েছে। এছাড়া তিনি অরো বলেন গাছ কিছুটা বড় হওয়ার পর গোড়াপচা রোগ দেখা দিয়, তার জন্য দায়ী মাটিতে থাকা অতিরিক্ত রস। বৃষ্টির কারণে এ রস মাটিতে মজে আছে ঠিকই, তবে এর জন্য দায়ী আধুনিক চাষযন্ত্র। ট্রাক্টর দিয়ে প্রতি মৌসুমে জমি চাষ করলে জমিতে কর্ষণ স্তর পড়ে যায়। মাটি চার ইঞ্চির বেশি গভীর হয় না। ফলে চার ইঞ্চি নিচের মাটিতে কর্ষণ স্তর পড়ায় মাটির রস নিচে নামতে পারে না। এ কারণে জমির ওপর মাটিতে রস বেশি থাকে। ফলে ফসলের গোড়াপচা দেখা দেয়। এ কারণে ফলন বিপর্যয় না হলেও উৎপাদন কমে যায়।