রাজশাহীতে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৩২০ পুকুরের মাছ

রাজশাহী প্রতিনিধি :
রাজশাহীতে বন্যার পানিতে ৩২০টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা এই মাছের আনুমানিক মূল্য প্রায় সোয়া কোটি টাকা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘রাজশাহী জেলার বাগমারা, মোহনপুর এবং পুঠিয়া উপজেলার ৩২০টি পুকুর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এসব পুকুরে আনুমানিক ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন মাছ ছিল। এর মূল্য প্রায় এক কোটি ১৭ লাখ টাকা। এছাড়াও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় এক দশমিক ১২ মেট্রিক টন পোনা মাছ। এর আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ টাকা।’ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার বাগমারা উপজেলা, যোগ করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা।

মৎস্য কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী বাগমারায় ১৫৬ মালিকের ২০৮টি বাণিজ্যিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ২২ মেট্রিক টন মাছ এবং দশমিক ৭০ মেট্রিক টন পোনা। মোহনপুর উপজেলার ১৮ জন মালিকের ২৮টি পুকুর ডুবে গেছে। এতে ভেসে গেছে ১৪ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন মাছ। এছাড়াও তানোর উপজেলার ১০ জন মালিকের ১২টি পুকুর ডুবে গেছে। এসব পুকুরে মাছ ছিল প্রায় তিন দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন। আর মাছের পোনা ছিল দশমিক ৪২ মেট্রিক টন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ১৩ আগস্ট বিকালে জেলার মোহনপুর উপজেলা ধূরইল ইউনিয়নের ভীমনগরে শীব নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। গত এক সপ্তাহে ওই ভাঙন দিয়ে পানি ঢুকে মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে দুই উপজেলার ২৩৬টি পুকুর পানিতে ডুবে গেছে। আর বাঁধের ভেতরে থাকায় তানোরের ১২টি পুকুর ডুবে গেছে। এছাড়া অন্যান্য পুকুরসহ মোট ৩২০টি পুরুরের মাছ ভেসে গেছে।

রাজশাহী জেলা মৎস অধিদফতরের ভাষ্য মতে, রাজশাহীতে বছরে মাছ উৎপাদন হয় ৮০ হাজার ২৮১ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রাজশাহীতে চাহিদা রয়েছে ৫৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন। প্রতিবছর উদ্বৃত্ত ২৬ হাজার ২৮৮ মেট্রিক টন মাছ রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার পাঠানো হয়। রাজশাহী জেলায় ৪১ হাজার ৮৭৬ পুকুর ও দিঘি মিলিয়ে সাত হাজার ২৯৪ হেক্টর জলাশয়ে মাছ চাষ হয়। এছাড়াও জেলার সড়ক মহাসড়কের পাশের ৩৬৭ দশমিক ৬৮ হেক্টর জলাশয়েও মাছ চাষ হচ্ছে।