ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: অনুকুল আবহাওয়া ও ধানের কাংখিত দাম পাওয়ায় রাজশাহীতে চাষিরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন বোরো চাষাবাদে। ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এবারে জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলায় ৬৭ হাজার ৪১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দাম ভাল থাকায় কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বোরো আবাদ বেশী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন চাষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

কাকা ডাকা ভোর থেকে কোমর বেঁধে বোরো চাষে মাঠে রাজশাহীর কৃষক। সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই ক্ষেতে বোরো চারা রোপনের হিড়িক পড়েছে। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার মাঠে মাঠে এমন দৃশ্যই এখন স্বাভাবিক। মাঠের দিকে নজর দিলেই চোখে পড়ে ব্যস্ত চাষিদের। কোনো জমিতে চলছে চাষ, বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে বীজ, চলছে রোপণ। আবার আগাম লাগানো বোরো ক্ষেতে নিড়ানি ও সার দেওয়ার কাজ। সব মিলিয়ে মাঠে জোরেশোরে চলছে বোরোর আবাদ। বিভিন্ন মাঠে মাঠে অপকিল্পিত পুকুর হওয়ায় এবং পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বোরোর চারা লাগাতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগিরা। এমন অবস্থার জন্য জেলার বরেন্দ্র অঞ্চল বলে খ্যাত গোদাগাড়ি ও তানোর উপজেলায় অনেক আগে থেকে তীব্র শীত উপক্ষো করে চাষিরা বোরো আবাদ রোপন করেছেন। আবার অনেকে আলুর আবাদ তুলে বোরো চারা রোপন করবে। তবে এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৫ শতাংশ জমিতে চারা রোপন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি অফিস।

এবারে বোরো আবাদে শ্রমিক খরচ বেশী হচ্ছে। পবা উপজেলার তেঘর গ্রামের আফাজ উদ্দিন সরকার বলেন, পানি নিস্কাশনের নালায় পুকুর খননে একদিকে পানি নেমেছে দেরিতে এবং অপরদিকে জমিতে কুচুরীপানা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মে চাষের অনুপোযোগী হয়ে যায়। সেগুলো পরিস্কার করতেই প্রতি বিঘাই ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরপর চাষ এবং চারা রোপন। এতে প্রথম অবস্থাতেই প্রায় ৭ হাজার টাকা লাগছে।

জেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, জেলায় বিভিন্ন জাতের বোরো চারা রোপন হচ্ছে। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রিধান-২৮, ২৯, ৪৯, ৫০, ৫২, ৬২, বিআর-১৫, ১৬ এবং কিছু জমিতে হাইব্রিড। তবে এবারে বোরো বীজতলায় কোল্ড ইনজুরি না থাকায় বোরো চারা ভাল হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা হিসেবে চাষিরা জানান, অনেকে আলু তুলে সেই জমিতে ভুট্টা বীজ রোপন করতেন। বর্তমান বাজারে ভুট্টার দাম কম এবং ধানের দাম বেশী হওয়ায় বোরো চাষে ঝুকবেন তারা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, বোরো চারা রোপণের উপযুক্ত সময় ১৫ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। এবারে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি হলেও চাষিরা শীতকে উপেক্ষা করেই ধানের চারা রোপণ করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন চাষিরা আমন ধানের দাম ভাল পাওয়ায় বোরো চাষে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। তাই ধারণা করা হচ্ছে এবারে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা শুধু অর্জিতই হবে না লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।