জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
কঠোর পরিশ্রম করে দুই দফায় বন্যার হাত থেকে আমন ধানের ক্ষেত রক্ষা করেও দমকা হাওয়ায় মাটিতে মিশে গেছে লালমনিরহাটের কৃষকের স্বপ্ন। শুক্রবার দিনগত রাতে হালকা বর্ষন ও দমকা হাওয়ায় ধান ক্ষেত মাটিতে পড়ে গিয়ে কৃষকদের অভাবনীয় ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে।

কৃষকরা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আগাছা ও কুচরী পানা পরিস্কার করে প্রয়োজনীয় সার ও পরিচর্যার মাধ্যমে আমন ক্ষেত রক্ষা করতে সমর্থ হন জেলার হাজার হাজার কৃষক। বন্যার পানির সাথে আসা পলিতে বেশ মোটা তাজাই হয়ে উঠেছিল তাদের আমন ধান ক্ষেত। শুক্রবার দিনগত রাতে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় মুহুর্তেই লন্ডভন্ড হয়েছে তাদের স্বপ্ন। মাঠের পর মাঠ উঠতি আমন ক্ষেত মাটির সাথে মিশে গেছে। পানিতে পড়ে যাওয়ায় এসব ধান সমুলে চিটা হয়ে যাবে বলে কৃষকরা আশংকা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর জানায়, এ বছর জেলার ৫টি উপজেলায় ৮২ হাজার ২৫৯ হেক্টর জমিতে আমন রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নিরুপন করা হলেও অর্জন হয়েছে ৮৪ হাজার ৭১০ হেক্টর।

মহিষখোচা এলাকার প্রান্তিক কৃষক আব্দুল মজিত জানান, স্থানীয় এনজিওতে ঋন নিয়ে প্রায় এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান রোপন করেন। গেল দুই দফায় বন্যায় ডুবে গেলেও আপ্রান চেষ্টা এবং পরিচর্যা করে ফিরায়ে আনেন। কিন্তু গত রাতের বৃষ্টি ও বাতাসে তার সকল ধান গাছ মাটির সাথে মিশে গেছে। আর মাত্র ২০/২২ দিন হলেই ধান গোলায় নিতে পারতেন এ কৃষক। উঠতি ধান নষ্ট হওয়ায় পরিবার পরিজনের খাবার শুধু নয়, ঋনের কিস্তি নিয়েও তিনি বড্ড চিন্তায় পড়েছেন।

মহেন্দ্রনগর এলাকার কৃষক মনসুর আলী, আক্কাস আলী, মেজবাহ উদ্দিন জানান, খুব বেশী হলে ১৫/২০ দিনের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে পারতেন তারা। এ সময় হঠাৎ এ বাতাশে তাদের ধান গাছ মাটির সাথে মিশে গেছে। গত বছরও একই ভাবে তাদের জমির ধান চিটায় পরিনত হয়েছে। এবারও একই পরিনতি। ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগও জুটছে না তাদের। পরিবার পরিজনের খাদ্য নিয়েও তারা চিন্তিত।

মোগলহাট এলাকার সবজি চাষি হাফিজ মিয়া জানান, এ বৃষ্টি আর দমকা হওয়ায় তার এক বিঘা জমির পটল, করলা, লাউ ও ছিমের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। প্রায় সবগুলো ক্ষেতের মাচাং বাতাশে ভেঙ্গে সবজির ডাল পালা ছিড়ে গেছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ পরিচালক বিধু ভুষন রায় জানান, এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাতাশে আমন ক্ষেত মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ধানের ক্ষতি হচ্ছে। সমুলে ক্ষতি হবে না। তবে ধানে চিটার পরিমান কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।