অনলাইন ডেস্ক::

‘সবাই ক্যাসিনোর টাকা খাইছে আর ধরা খাইলাম আমি’-র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে এমনই মন্তব্য করেছিলেন ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে পরিচিত যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। তাঁর দাবি, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অনেক মহলে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা দিতেন তিনি।

র‌্যাবের অভিযান ও তদন্তে ১০টি ক্লাবের ক্যাসিনো, বাস-লেগুনা স্ট্যান্ডের চাঁদা এবং টেন্ডারবাজি মিলে সম্রাটের প্রতিদিন কোটি টাকা সংগ্রহের তথ্য মিলেছে। কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তাঁর একটি ভল্ট ফাঁকা পাওয়া যায়, যেখানে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা থাকত। এ ছাড়া ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, ডেমরায় কিছু জমি ছাড়া সম্রাটের কোনো সম্পদের সন্ধান মেলেনি।

র‌্যাব ও যুবলীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্যাসিনো ও চাঁদাবাজির অঢেল টাকার বেশির ভাগই হুন্ডির মাধ্যমে পাঁচটি দেশে পাচার করেছেন সম্রাট। চট্টগ্রামের শীর্ষ হুন্ডি কারবারি শাহিন চৌধুরীসহ কয়েকজনের মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে বলে জানায় সূত্র।

সূত্রগুলো জানায়, সম্রাটের ক্যাসিনোর টাকার হিসাব ও লেনদেন করতেন তাঁর সহযোগী আরমানসহ পাঁচজন। এর মধ্যে ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযান শুরু হলে জাকির ও সাঈদ নিজেদের টাকার সঙ্গে সম্রাটের শত কোটি টাকা সরিয়ে সিঙ্গাপুরে চলে গেছেন। ধরা পড়েছেন খালেদ ও আরমান। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে টাকার সূত্র মিলবে বলে ধারণা করছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। টাকা ও ব্যাংক হিসাব শনাক্ত হলে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে বলে জানান তাঁরা।

জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘মামলার তদন্তভার পেলে ক্যাসিনোর টাকাসহ সম্রাটের অবৈধ অর্থের উৎস, ক্যাসিনোর টাকা কোথায় যেত, দেশের বাইরে অর্থপাচার হতো কি না সব বিষয়ে আমরা খোঁজ নিব।’ তিনি জানান, র‌্যাব সম্রাটের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেতে আবেদন করেছে।

অভিযানে সংশ্লিষ্ট র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, ফকিরাপুল-আরামবাগ থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ওয়ান্ডারার্স, ইয়ংমেন্স, আরামবাগ, মেরিনার্স, মোহামেডানসহ ১০টি ক্লাব থেকে প্রতি রাতে তিন কোটি টাকার লেনদেন হতো। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ যেত সম্রাট সিন্ডিকেটের পকেটে। এই হিসাবে এক রাতে আয় ৭৫ লাখ টাকা।