খুলনা ব্যুরো::

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ক-কেইউ ডিগ্রি শোতে নবীন স্থপতিদের ৩৬টি গবেষণাকর্মের দর্শনীয় নকশা স্থান পেয়েছে। নবীন স্থপতিদের গবেষণাকর্মের দর্শনীয় নকশা দেখে অভিভূত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া উল্লেখযোগ্য নকশাগুলো হচ্ছে- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির প্রস্তাবিত ডিজাইন, খানজাহান আলী (র.) সেতুর পূর্ব তীরে পাঁচতারা হোটেল, ফুলতলায় মানসিক হাসপাতাল, মংলায় নৌবাহিনীর আঞ্চলিক হেডকোয়ার্টার, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু দারিদ্র বিমোচন কেন্দ্র, ঢাকায় ন্যাশনাল ডিজাইন ইনস্টিটিউট, নওগাঁর আতাইকুলায় গণহত্যা মিউজিয়াম, মেহেরপুরে মুজিব নগর স্থলবন্দর, পায়রা বন্দরে জাহাজ নির্মাণ কারখানা, যশোরে ফুল প্রসেসিং কেন্দ্র, ঢাকার পূর্বাচলে ব্রিটিশ চিন্তা বহির্ভূত যুগোপযোগী শিক্ষা কমপ্লেক্স’র প্রস্তাবিত নকশা।

এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় খুবি’র ড. সত্যেন্দ্র নাথ বসু একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপত্য ডিসিপ্লিনে দু’দিনব্যাপী আর্ক-কেইউ ডিগ্রি শো’র (নবীন স্থপতিদের গবেষণাকর্ম) উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থাপত্য ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. খন্দকার মাহফুজ-উদ-দারাইন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, সারা দেশে নতুন নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে, নতুন নতুন অবকাঠামো গড়ে উঠছে। বিগত ১০-২০ বছরে ক্রমাগতভাবে দৃষ্টি নন্দন ডিজাইনের ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে শহরের এমনকি গ্রামের ঘরবাড়ির শোভাও পাল্টে যাচ্ছে। এর পিছনে যাদের অবদান তারা হলেন স্থপতি। তিনি বলেন, গত ৩০ বছরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন দেশে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ডিগ্রি শো’তে নবীন স্থপতিদের যে সমস্ত গবেষণাকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে তার সবিশেষ দিক তুলে ধরা হয়েছে। তাতে আমরা দেখতে পেলাম সারা দেশের উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য ডিজাইন স্থান পেয়েছে। যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে একটি টেকসই পরিবেশসম্মত সুন্দর নান্দনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টার স্বপ্ন আমরা দেখতে পাই। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী বা নৃ-গোষ্ঠীর স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ থাকে। নবীন স্থপতিদের তাদের কাজের সময় এ বিষয়গুলো সামনে রেখেই একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজাইন তৈরি করতে হবে। স্থপতিরা একটি জাতির মনন পরিবর্তনে, একটি দেশ ও অঞ্চলকে বৈচিত্র্যপূর্ণ, দৃষ্টিনন্দন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নর্থ ওয়েষ্টার্ন ইউনিভাসির্টির উপাচার্য প্রফেসর ড. তারাপদ ভৌমিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি স্থপতি জালাল আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক গৌরী শংকর রায়। নবীন স্থপতিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আকাশ। অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে হেড লিস্ট ও মাস্টার্স পর্যায়ে বেস্ট থিসিস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, নবীন স্থপতিদের অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।