স্পোর্টস রিপোর্টার॥ ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ৯টি ম্যাচের মধ্যে ৪টি হয়েছিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে। তখন গ্রুপ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ ঢাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামেও হয়েছিল। পরের বছর জাতির পিতার নামে অনুষ্ঠিত টুনামেন্টের কিছু ম্যাচ যশোরে হয়েছিল। গত বছর হয়নি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। এক বছর পর আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসর বাংলাদেশের পঞ্চম বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ।

পরের বছর ২০১৬ সালে হয় চতুর্থ এবং সর্বশেষ আসর। কিন্তু প্রতি বছর আসরটি আয়োজনের যে প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দিয়েছিল, ২০১৭ সালে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা। এক বছর বিরতি দিয়ে এবার আবারও তারা আয়োজন করতে যাচ্ছে আসরটি। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত আসরটি অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশসহ এশিয়ার মোট ৬টি দেশের জাতীয় ফুটবল দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। প্রতিযোগিতার স্বত্বপ্রাপ্ত ‘কে-স্পোর্টসে’র সঙ্গে বাফুফের এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার মতিঝিলস্থ বাফুফে ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী এবং কে-স্পোর্টসের চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ফাহাদ এমএ করিম স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট এবার ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। পেছনের টুর্নামেন্টগুলোর চেয়ে অক্টোবরে হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে দর্শকদের আলাদা স্বাদ দেয়ার চেষ্টা করবে টুর্নামেন্টের স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান কে স্পোর্টস। কিভাবে বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে সবার কাছে আদরণীয় করা যায় তার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানটি বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবলের ব্যয়ের যা কিছু করা দরকার সবই করবে। প্রতিষ্ঠানটি জানে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গিয়ে কতটুকু ঘাম ঝরাতে হয়। কোথায় কোথায় অর্থ ব্যয় হয়। তা নিয়ে ভাববে না কে স্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহাদ করিম জানিয়েছেন- তারা টুর্নামেন্ট হতে অর্থ আয়ের কথা ভাবছেন না। ফাহাদ করিম বলেন, ‘লাভ-লোকসানের কথা চিন্তা করছি না।’ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের স্বত্ব কিনে নেয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গতকাল দুপুরে বাফুফের চুক্তি হয়েছে। একবছরের জন্য চুক্তি হলেও কে স্পোর্টসের আগ্রহ আছে পরেরবারও তারা টুর্নামেন্ট করবে। কিন্তু সবকিছু নির্ভর করছে প্রথম আয়োজনটির উপর। কে স্পোর্টসের কাছে অনেকটা পরীক্ষার মতই। চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আছে কে স্পোর্টস। দেশের ফুটবলে যদি ভালো কিছু হয় সে লক্ষ্যে একটা টুর্নামেন্টের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে রাজি তারা। সামনের পথ কি হবে সেটা সময়ের উপর ছেড়ে দিয়েছে কে স্পোর্টস।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল আগামী অক্টোবরের (১-১২) প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে। খেলা হবে ঢাকা এবং সিলেটে। আগেরবারও এভাবে হয়েছিল। সিলেটের ফুটবল দর্শকের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে এমন ভাবনা বাফুফের। টুর্নামেন্টে যেসব দল আসবে তার সব খরচ, স্থানীয় খরচও বহন করবে কে স্পোর্টস। গত ৯ আগস্ট চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয় এবার বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বাফুফের কোনো খরচ হবে না। উল্টো কে স্পোর্টস এক কোটি টাকা দেবে। টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন করতে কে স্পোর্টস বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। তারা দেশের দুটি টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবে খেলা সম্প্রচারের জন্য। ইংরেজি এবং বাংলা ধারাবিবরণী দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর দর্শক যদি ঘরে বসে খেলা দেখতে চায় তার জন্য তাদের দেশের টিভিগুলো খেলা সম্প্রচার করতে পারবে, তবে চুক্তি করতে হবে কে স্পোর্টসের সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ফাহাদ করিম জানিয়েছেন- আমরা খুব প্রাউড ফিল করি যে জাতির জনকের নামে ফুটবল টুর্নামেন্টে জড়িত হতে পারছি। তিনি বলেন,‘আমরা এই টুর্নামেন্টটি এমনভাবে আয়োজন করতে চাই যে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল অঞ্চলের বাইরেও সুনাম ছড়ায়। টপ টুর্নামেন্ট হিসাবে দাঁড় করাতে চাই। টুর্নামেন্ট নিয়ে লাভ-লসের কথা ভাবছি না।’

টুর্নামেন্টের টিকিট বিক্রির টাকা বাফুফে পাবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বললেন, ‘সবগুলো জাতীয় দলকে আমন্ত্রণ করব। সাফ অঞ্চল, আসিয়ান অঞ্চল, ইস্ট ওয়েস্ট অঞ্চলের ফুটবল দলকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।’ এরই মধ্যে ফিলিস্তিন, নেপাল, আফগানিস্তান খেলবে বলে বাফুফে আগেই জানিয়েছে। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আগে আমরা বিভিন্ন দেশের টুর্নামেন্টে খেলতে যেতাম। কিংস কাপ, প্রেসিডেন্ট কাপ ফুটবলের মত বড় বড় টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছি। এখন ফুটবল দেশগুলো ফিফা এএফসি এবং ঘরের খেলাগুলোর পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও আয়োজন করে না কোনো দেশের টুর্নামেন্টেও খেলতে না যাওয়ার সংখ্যাটাও কমে গেছে। যে কারণে সিডিউল পাওয়া যায় না। যে কারণে বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল আয়োজনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।