স্পোর্টস ডেস্ক:: ক্যাম্প নূ’তে করা একটি মাত্র গোল কাজে দিল রোমার। বার্সার মাঠ থেকে ৪-১ ব্যবধানে হারার পর বলতে গেলে আর কোন সুযোগই ছিল না রোমার সামনে। ম্যাচটি হয়ে গিয়েছিল কেবল নিয়ম রক্ষার। কিন্তু রোমা দেখালো নিজেদের মাঠে তারাও কী কী করতে পারে। বার্সার জালে তিন গোল দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠে গেল রোমা। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ হলেও বার্সার মাঠ থেকে একটি অ্যাওয়ে গোল নিয়ে ফেরার সেমিতে পৌঁছে গেছে ইতালির ক্লাবটি।

মেসি, সুয়ারেজ, ইনিয়েস্তাকে সরিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে গেলেন ডি রসি, জেকো এবং মোনালাসরা। এরআগে রোমা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলেছিল ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে। এরপরে আর সেমিতে খেলা হয়নি তাদের। কিন্তু রূপকথার এক জয়ে বার্সাকে দর্শক বানিয়ে উদযাপন করলো রোমা।

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য দিনটা যে তাদের জানান দেয় রোমা। শুরুর ছয় মিনিটের মাথায় বার্সার জালে প্রথম বল পাঠায় রোমার জেকো। এরপর ওই এক গোল নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে রোমা। তবে বার্সাকে বুঝিয়ে দেয় ভুল করলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। ম্যাচের আগে ভালভার্দে যেমন বলেছিলেন, ‘ভুল করলে তারা ছেড়ে কথা বলবে না।’ ঠিক তাই। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই রোমা তাদের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায়। এবার গোল করেন রোমার বুড়ো ডি রসি। পেনাল্টি থেকে ৫৮ মিনিটে দলের দ্বিতীয় লিড এনে দেন তিনি।

তবে দুই গোল করে শুধু জিতলেই তো রোমার সেমি ফাইনাল নিশ্চিত হবে না। করতে হবে তিন গোল। তারপরেও ছিল আরো সমীকরণ। বার্সার কঠিন আক্রমণ সামলে নিজেদের জাল অক্ষত রাখার পরীক্ষাটাও দিতে হতো। এক গোল খেলেই যে বিপদ। কিন্তু কোন বিপদ হতে দেয়নি স্বাগতিকরা। বরং ম্যাচের ৮২ মিনিটে মোনালাস তৃতীয় গোলটি করে শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা এনে দেয়।

শেষ বাঁশি বাজতেই রোমা করেছে বুনো উল্লাস। এক সেমিতে উঠার। আরেক বার্সার বিপক্ষে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার। প্রথম লেগে ৪-১ গোলে হারের হিসেব তো ছিলই এর আগেও যে মেসিরা স্বপ্ন ভেঙেছে তাদের। বিদায় করে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের নক আউট পর্ব থেকে।