স্পোর্টস রিপোর্টার:: বেলজিয়ামের বিপক্ষে লড়াই করে পারল না ব্রাজিল। সেমিতে উঠার আগেই তাদের বিদায় ঘন্টা্ বেজে গেলো। কৌতিনহোদের একের পর এক পাখির ডানা ঝাপটানো আক্রমণ। সেই আক্রমণের মুখে বেলজিয়ামের দাঁতে দাঁত রাখা ডিফেন্স। সেই ডিফেন্সে মুখ থুবড়ে ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

বেলজিয়াম এদিন প্রথম গোল পায় ব্রাজিলের ফের্নানদিনহোর সৌজন্যে। দ্বিতীয় গোলটি করেন কেভিন ডি ব্রুইন। ব্রাজিলের হয়ে এক গোল শোধ দেন বদলি খেলোয়াড় অগাস্তো। শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় দুটি কর্নার থেকে দুইবার সুযোগ পায় ব্রাজিল। আট মিনিটে থিয়াগোর হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়বার পাউলিনহো বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও ঠিকমতো ভলি করতে পারেননি।

সমানতালে লড়তে থাকা বেলজিয়াম এগিয়ে যায় কর্নার থেকে। নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ফের্নানদিনহো! হেড করতে গিয়ে বল লাগে তার কনুইতে। সেখান থেকে জালে।গোল হজম করেও কৌশলে খুব একটা পরিবর্তন আনেনি ব্রাজিল। নেইমারের উইং ধরে মার্সেলো বারবার ছোটো ছোটো পাসে উপরে উঠছিলেন। কিন্তু বেলজিয়ামের পরিকল্পিত ডিফেন্স ভাঙা সম্ভব হচ্ছিল না তাদের। এর ভেতর কাউন্টার অ্যাটাকে আবার দ্বিতীয় গোল হজম করে ব্রাজিল।

মাঝমাঠ থেকে বল নিয়েই দ্রুতগতিতে দৌড় মারেন লুকাকু। পড়ে যাওয়ার আগে বক্সের একটু আগে তিনি বল দেন কেভিন ডি ব্রুইনিকে। তিনি বেশি সামনে না এগিয়েই, অন্তত ২০ গজ দূর থেকে শট নেন। অবাক করার বিষয় হল তার পাশে ছিলেন মার্সেলো। তিনি বলে তো যানইনি; শট নেয়ার সময় ব্রুইনকে একটু বিরক্তও করেননি। বাধাহীন ব্রুইনের শট ডানপোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে উইলিয়ানকে উঠিয়ে নেন ব্রাজিল কোচ টিটে। মাঠে আসেন ফিরমিনহো। ৫১তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফিরমিনহো গোল শোধ দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন। বাঁদিক মার্সেলো তাকে মাটিকামড়ানো পাস দেন। পা ছোঁয়াতে পারলেই গোল হয়ে যায়। চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

৫৮তম মিনিটে দ্বিতীয় পরিবর্তন নেন টিটে। স্ট্রাইকার জেসাসকে উঠিয়ে কস্তাকে নামান। কস্তা নেমেই একটি সুযোগ সৃষ্টি করেন। বক্সের ভেতর থেকে শট নেন। আগে গোটা তিনেক দারুণ সেভ করা বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া এবারও এক হাত দিয়ে বল ফিরিয়ে দেন। কস্তা ৭১তম মিনিটে দূর থেকে আরেকটি শট নিয়েছিলেন। সেটিও ধরে ফেলেন কোর্তোয়া।

৭৫তম মিনিটে তৃতীয় পরিবর্তন হিসেবে পাউলিনহোর পরিবর্তে মাঠে আসেন অগাস্তো। নেমেই ৭৬তম মিনিটে এক গোল শোধ দেন। কৌতিনহোর ক্রস থেকে হেড করে বল জালে জড়ান তিনি। ৮১তম মিনিটে ওই অগাস্তো সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন। বক্সের ভেতর থেকে অনেক ফাঁকা জায়গা পান। শট নেয়ার সময়ও পাশে কেউ ছিলেন না। সেই শট বাইরে দিয়ে মারেন!

পাঁচবারের বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল টুর্নামেন্টের শেষ তিন আসরে দুইবার বিদায় নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। বিশ্বকাপে এর আগে দুইবার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে বেলজিয়াম। চার বছর আগে গত বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে তারা। এর আগে ১৯৮৬ সালে ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ইউরোপের দেশটি। কিন্তু ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন দিয়েগো মারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। তিতের অধীনে ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৯টিতেই কোনো গোল হজম করেনি ব্রাজিল। বাকি ছয় ম্যাচে মাত্র একটি করে গোল হজম করেছে তারা। এখন পর্যন্ত চলতি আসরের দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২টি গোল করেছে বেলজিয়াম।

বিশ্বকাপে চারবার পেনাল্টি শুট আউটের মুখোমুখি হওয়া ব্রাজিল জয় পেয়েছে তিনটিতেই। এর মধ্যে আছে ১৯৯৪ সালে ইতালির বিপক্ষে ফাইনালে পাওয়া জয়ও।বিশ্বকাপে নিজেদের একমাত্র পেনাল্টি শুট আউটে জয় আছে বেলজিয়ামের। ১৯৮৬ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেরা চারে পৌঁছে বেলজিয়ানরা। রাশিয়া বিশ্বকাপে ২৪টি শট নিয়েছেন নেইমার যা অন্য যে কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি।

এদিকে, ১৯৯০ সালের পর থেকে কখনো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে বাদ পড়েনি ব্রাজিল। টানা সপ্তমবারের মতো শেষ আটে খেলবে সেলেসাওরা। এর মধ্যে মাত্র দুইবারই হেরেছে তারা (২০০৬ সালে ফ্রান্স ও ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে)। বিশ্বকাপের শেষ তিন আসরেই ইউরোপিয়ান দলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা (২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস ও ২০১৪ সালে জার্মানি)। রবের্তো মার্তিনেসের অধীনে বেলজিয়ামের হয়ে নিজের শেষ ১৮ ম্যাচে ১৯টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এদেন আজার, নিজে দশটি করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৯টি। ব্রাজিলের হয়ে নিজের শেষ ১৯ ম্যাচে ২০টি গোলে অবদান রেখেছেন নেইমার।

নিজে করেছেন ১১টি, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৯টি। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত লক্ষ্যে থাকা পাঁচটি শটের চারটিতেই গোল করেছেন বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু। ব্রাজিল ও বেলজিয়াম এর আগে চারবার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। ২০০২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সর্বশেষ লড়াইসহ তিনটিতে জয় সেলেসাওদের। ১৯৬৩ সালে দুই দলের প্রথম লড়াইয়ে একমাত্র জয়টি পেয়েছিল বেলজিয়াম।