স্পোর্টস ডেস্ক:: একদিকে সাকিব আল হাসান, অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের দুই তারকা বৃহস্পতিবার আইপিএলে খেলতে নেমেছিলেন পরস্পরের বিপক্ষে। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মোস্তাফিজ এগিয়ে থাকলেও শেষ হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সাকিব আল হাসানের দল।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ১৪৭ রান তাড়া করতে নেমে বেশ দাপটের সাথে এই ম্যাচে অগ্রসর হয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। শেখর ধাওয়ান ও ঋদ্ধিমান সাহার ৬২ রানের জুটিতে প্রথম ১০ ওভারেই ম্যাচ অনেকটা পকেটে পুরেছিলো দলটি।

এরপর আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতায় দারুণ বোলিং করে মুম্বাইকে ম্যাচে ফেরায় লেগ স্পিনার মায়ানক মারকান্দে। দারুণ এক স্পেলে পরপর ৪ উইকেট তুলে নেয় পাঞ্জাবের এই তরুণ। তবে এরপরও ম্যাচটা হায়দরাবাদের দিকেই ঝুলে ছিলো। শেষ দিকে ম্যাচটি জমিয়ে তোলেন মোস্তাফিজুর রহমান। আগের দুই ওভারে ২০ রান দেয়া মোস্তাফিজ ১৬তম ওভারে দেন মাত্র ৩ রান।

১৮তম ওভারে পরপর দুটি উইকেট তুলে নেন জাসপ্রিত বুমরাহ। জমে ওঠে ম্যাচ। তবে আরো নাটকীয়তার বাকি ছিলো। ১৯ ওভারে রোহিত শর্মা বল তুলে দেন মোস্তাফিজের হাতে। হায়দরাবাদের তখন দরকার ১২ বলে ১২ রান। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাত্র এক রান খরচ করে দুটি উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার। চতুর্থ বলে সিদ্ধার্থ কৌলকে ফিরতি ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। আর শেষ বলে স্কুপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন সন্দ্বীপ শর্মা।

শেষ ওভারের প্রথম বলে বেন কাটিংয়ের ফুলটস ডেলিভারি কে উড়িয়ে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান দিপক হুদা। এখানেই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় রোহিত শর্মার দল। তবে তারপরও শেষ বল পর্যন্ত খেলতে হয়েছে হায়দরাবাদকে। শেষ ওভারে যেটুকু উত্তেজনা ছিলো তা কেবলই ক্রিজে হায়দরাবাদের শেষ উইকেট জুটি বলেই। কারণ বলের তুলনায় রানের সমীকরণ সহজই ছিলো। শেষ বলে যখন এক রান দরকার তখন বাউন্ডারি হাকান বিলি স্ট্যানলেক।

হায়দরাবাদের পক্ষে ওপেনার শেখর ধাওয়ান ২৮ বলে ৪৫, দিপক হুদা ২৫ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাকিব আল হাসান ১২ বলে ১২ রান করেছেন। মোস্তাফিজ প্রথম দুই ওভারে ২০ রান খরচে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। শেষ দুই ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৪ রান, উইকেট দুটি। শেষ পর্যন্ত চার ওভারে ২৪ রানে ৩টি ও মায়ানক মারকান্দে ২৩ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে এভিন লুইসের ২৯, কাইরন পোলার্ড ও সূর্যকুমার যাদবের ২৮ রানে ভর করে ৮ ্উইকেটে ১৪৭ রান তোলে মুম্বাই। হায়দরাবাদের দারুণ বোলিং মুম্বাইকে বড় সংগ্রহ পেতে দেয়নি। আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সন্দ্বীপ শর্মা, বিলি স্ট্যানলেক ও সিদ্ধান্ত কৌল ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। সাকিব আল হাসান ৩৪ রানে নিয়েছেন একটি উইকেট।