স্পোর্টস ডেস্ক:: জমজমাট লড়াই ও টানটান উত্তেজনায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে চলল খেলা। তবে শেষ হাসি হাসল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২ রানে হারাল সাকিব বাহিনী। রোমাঞ্চকর এ জয়ে ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা টানল তারা।

এর আগে, টানা পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে হার। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতায় ফিরতে হলে স্কোরবোর্ডে যত বেশি সম্ভব রান তুলতে হতো। সেটি যে তামিম ইকবালের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছিল, তা বলাই বাহুল্য। ওয়ানডে সিরিজে রানের ফোয়ারা ছোটালেও টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হতাশ করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে দেখা গেল সেই পরিণত তামিমকেই। তাঁর ও সাকিবের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে ৫ উইকেটে ১৭১ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

১৭২ রানের জবাবে শুরুটা শুভ হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। স্কোরবোর্ডে ৫ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন এভিন লুইস। মূল্যবান উইকেটটি তুলে নেন টাইগার পেস সেনসেশন মোস্তাফিজুর রহমান। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বিধ্বংসী ওপেনারকে ফেরান তিনি। ক্যারিবীয় শিবিরে দ্বিতীয় আঘাতটিও হানেন কাটার মাস্টার। মুশফিকের কটবিহাইন্ডে ফিরিয়ে দেন বিস্ফোরক ব্যাটার আন্দ্রে রাসেলকে। ফলে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মারলন স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে সেই চাপ অব্যাহত রাখেন সাকিব আল হাসান।তাতে বাড়তি পারদ জোগান রুবেল হোসেন।এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নের পথ ধরান দিনেশ রামদিনকে।

একে একে টপর্ডারের সবাই ফিরলেও টিকেছিলেন আন্দ্রে ফ্লেচার। রোভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটছিলেন তিনি।ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে উঠছিলেন।অবশেষে হার মানেন ক্যারিবীয় ওপেনার।নাজমুল ইসলামের দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে তালগোল পাকিয়ে সাকিবকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ফ্লেচার। তার আগে ৩৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৩ রানের সংগ্রামী ইনিংস খেলেন তিনি।পরক্ষণেই ক্যারিবীয় দলপতি কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে তুলে নেন সাকিব।এতে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ।

রোববার ফ্লোরিডার লডারহিলে টস ভাগ্যে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। তবে শুরুতেই হোঁচট খান সফরকারীরা। স্কোরবোর্ডে ৭ রান যোগ হতেই অ্যাশলে নার্সের শিকার হয়ে ফেরেন ওপেনিংয়ে নামা লিটন দাস (১)। আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করে ওয়ানডাউনে নামা মুশফিকুর রহিম। সেই নার্সের স্পিন ভেলকিতে রাসেলকে ক্যাচ প্র্যাকটিস করিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল (৪)। ফের ব্যর্থ সৌম্য (১৪)। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই সাজঘরে ফেরত আসেন তিনি। এতে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

টপঅর্ডারের ৩ উইকেট হারিয়ে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল সফরকারীরা। তবে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম-সাকিব সৌজন্যে সেই ধাক্কা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান।

৪৪ বলে ৭৪ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন তামিম। ফোর্ট লডারডেল মাঠে শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক মেজাজ দেখানো সাকিব ৩৮ বল খেলে করেন ৬০ রান। দুই তারকা ক্রিকেটার চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫০ বলে গড়ে তোলেন ৯০ রানের দারুণ এক জুটি। আর তাতেই শুরুর হোঁচটের পরও বড় সংগ্রহ পেয়েছে টিম টাইগার্স।

তামিম টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে তার ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন ৩৫ বলে। পরের ৯ বলে যোগ করেন ২৪ রান। আন্দ্রে রাসেলকে তিন ছক্কা মেরে ওই ওভারেই বাউন্ডারি সীমানায় কিমো পলের হাতে ক্যাচ দেন এ ড্যাশিং ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল ৪টি ছয় ও ৬টি চারের মার।

সাকিব ফিফটি পূর্ণ করেন ৩০ বলে। অধিনায়ক হিসেবে টি-টুয়েন্টিতে এই অলরাউন্ডারের প্রথম ফিফটি। পরের ৮ বলে ১০ রান যোগ করে কিমো পলের দ্বিতীয় শিকারে পরিনত হন।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১০ বলে ১৩ ও আরিফুল হক ১ বলে ১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হন লিটন দাস। তিনে মুশফিকুর রহিম। আর চারে সৌম্য সরকার। ব্যাটিং পজিশন অদলবদল করলেও শুরুতে হতাশাই উপহার দেন ব্যাটসম্যানরা। ৭.৪ ওভারে ৪৮ রান তুলতেই তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তামিম টিকে থাকায় তখনও আশা থাকে ভালো কিছুর। পাঁচে নামা সাকিবের সঙ্গেই গড়ে ওঠে ওপেনার তামিমের জুটি।

আগের ম্যাচের মতোই নিজের প্রথম ওভারে উইকেট নেন অফস্পিনার অ্যাসলে নার্স। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে কাভারে ব্র্যাথওয়েটের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। ৫ বল খেলে ১ রান করেন এ ডানহাতি। দলীয় রান তখন ৭।

বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারেননি মুশফিকও। ৪ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। নার্সের দ্বিতীয় ওভারে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আন্দ্রে রাসেলের হাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটিং ভরসা।

১৪ রান করে কিমো পলের স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে বাউন্ডারি সীমানায় পাওয়েলের হাতে ক্যাচ দেন সৌম্য। দলীয় অর্ধশতকের আগে তিন উইকেট হারালে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন আবু হায়দার রনি। তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ডানহাতি পেসার রুবেল হোসেনের সঙ্গে দুই বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও আবু হায়দার।

ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল মাঠের ২২ গজ ব্যাটসম্যানদের আশাহত করে খুব কম সময়ই। সবশেষ তিন ইনিংসেই হয়েছে দুইশ’র উপরে রান। টি-টুয়েন্টি সংস্করণে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র আন্তর্জাতিক ভেন্যুটির দখলে। আর এই মাঠেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজে টিকে থাকার মিশন টাইগারদের। পিছিয়ে পড়া (১-০) বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: আন্দ্রে ফ্লেচার, এভিন লুইস, ম্যারলন স্যামুয়েলস, দীনেশ রামদিন (উইকেটরক্ষক), কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), রোভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেল, আশলে নার্স, স্যামুয়েল বদ্রি, কিমো পল ও কেসরিক উইলিয়ামস।