গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে গাইবান্ধায় শুরু হয়েছে ইরি-বোরো চাষাবাদ। শীতে ইরি-বোরোর চারা নষ্ট হলেও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, শীতের কারণে মাঠে কাজ করতে বেশি টাকা চাচ্ছেন শ্রমিকরা। মৌসুমের শুরুতেই বেড়ে গেছে ধান চাষের উৎপাদন খরচ। খরচ বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী নেই কৃষকের ধানের দাম। বছর বছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়ে না ধানের দাম। উল্টো কমে যায়। এজন্য হতাশ কৃষকরা।

তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, শীতের কারণে ইরি-বোরোর চারা নষ্ট হলেও সংকট হবে না। এবারও ইরি-বোরোর চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। শ্রমিক ও উৎপাদন খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ধানের দামও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধার সাত উপজেলায় পুরোদমে ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমি চাষ দিয়ে প্রস্তুত করছেন, কেউ বীজ তুলছেন আবার কেউ চারা লাগাচ্ছেন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, জমি চাষ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকদের মজুরি ও সেচের পানিসহ সব কিছুর দাম বেশি। উৎপাদন খরচ অনুয়ায়ী ধানের দাম কম। গত বছর দুবার বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে ভালো ফলন হলেও মেলেনি উপযুক্ত দাম। বাঁচার তাগিদে শীত ও সব খরচ উপেক্ষা করে ইরি-বোরোর চাষ করছেন কৃষকরা।

সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের বুরুঙ্গি গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ভালো ফলনের আশায় শীত ও উৎপাদন খরচ উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম করছি আমরা। এরপরও ধান বিক্রির সময় উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এখন ধান চাষ করে উৎপাদন খরচই ওঠে না।

সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের চাষি আব্দুল মমিন বলেন, হাড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশাযুক্ত মাঠে কাজ করতে বেশি টাকা নিচ্ছেন শ্রমিকরা। প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের দাম ৮০০ টাকা, জমিতে সেচ দিতে খরচ ১৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা, বীজ বোপন, চারা রোপণ ও জমিতে চাষ দিয়ে অতিরিক্ত খরচ নেয়া হয়। বোরো মৌসুমের শুরুতেই বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। ধান কাটার সময় দেখা যাবে বাজারে দাম নেই।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, এ বছর এক লাখ ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীতের কারণে ইরি-বোরোর চারা নষ্ট হলেও সংকট হবে না। এবারও ইরি-বোরোর চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, শ্রমিক ও উৎপাদন খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ধানের দামও। কাজেই কৃষকদের হতাশ না হয়ে বোরো চাষ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।