চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি::

সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ধানের দাম না থাকায় হতাশাগ্রস্ত কৃষক। তবে অনেক কৃষক নতুন জাতের সুগন্ধী ধান ব্রি-ধান-৫০ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন ও এ ধানের দাম ভালো পাওয়ায় অধিকাংশ কৃষকদের মাঝে এ ধান চাষে ব্যাপক আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে। ফলে আগামীতে এ ধানের চাষ ব্যাপক হারে হবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল হতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহায়তায় বেসরকারী সংস্থা গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে) সুগন্ধি ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সে লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর এর সহযোগিতায় প্রকল্প অর্ন্তভুক্ত কৃষকদের ২ দিন ব্যাপী সুগন্ধি ধান চাষের উন্নত পদ্ধতি ও রোগ-পোকা দমনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর ফলে কৃষকেরা ধান উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিশেষ করে সুষম সারের ব্যবহার, সিঙ্গিল হিল মেথড, পার্চিং এবং রোগ ও পোকা মাকড় দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানতে পারে। যা ঐ অঞ্চলের কৃষকেরা পূর্বে জানত না তারা শুধুমাত্র সনাতন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে ধান চাষ-আবাদ করত ফলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতো। এ বছর বোরো মৌসুমে উন্নত প্রযুক্তি ও কলা কৌশল ব্যবহার করে প্রায় ৪০ একর জমিতে ব্রিধান-৫০ জাতের ধান চাষাবাদ হয়েছে, ফলনও ভাল হয়েছে।

আব্দুলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের কৃষক এহসানুল হক জানান, তিনি এবার ৩৩ শতক জমিতে ব্রিধান-৫০ চাষ করে ২৮ মণ ধান উৎপন্ন করেছেন যার বাজার মূল্য ১৮ হাজার ২০০ টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হয়েছে ৮ হাজার ৪০০ টাকা। চারা লাইন করে রোপণ করার ফলে চারার পরিমান কম লাগার পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি ও রোগ পোকা-মাকড় কম হয় ও অর্ন্তবর্তীকালীন পরিচর্চা করতেই সহজ হয়। কিন্ত সনাতন পদ্ধতিতে ওই জমিতে চাষ করতে তার ব্যয় হতো প্রায় ১০ হাজার টাকা। ধান উৎপাদন হতো ২০ থেকে ২২ মণ যার বাজার মূল্য ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন তিনি এবার ৪৮ শতক জমিতে ব্রিধান-৫০ চাষ করে ৩৮ মণ ধান উৎপন্ন করেছেন যার বাজার মূল্য ২৪ হাজার ৭০০ টাকা। গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের নিকট হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন এতে তাদের উৎপাদন খরচ যেমন কমেছে পাশাপাশি তাদের আয়ও বেড়েছে। গ্রাম বিকশ কেন্দ্রের সুগন্ধি ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান কৃষিবিদ মোঃ লিয়াকত আলী জানান, কৃষক একটি করে চারা সারিতে রোপন, মাজরা পোকা দমনের জন্য ডাল বা কঞ্চি পুতে দেওয়া, কাংখিত মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ এইসব প্রযুক্তি গ্রহন করায় ধানের ফলন ভাল হয়েছে, উপৎপাদন খরচ হ্রাস পেয়েছে। ফলে ব্রিধান- ৫০(বাংলামতি) চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সুগন্ধী ধান ব্রিধান- ৫০(বাংলামতি) চাষাবাদে উন্নত কলাকৌশল কৃষকদের মাঝে সম্প্রসারণের জন্য আমরা সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সার্বিক পরামর্শ ও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের পেইস প্রকল্পের আওতায় সুগন্ধী ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্পের সহযোগিতায় কৃষকরা বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করায় ধানের ভাল ফলন হচ্ছে। এ প্রকল্প চালু থাকলে পরবর্তীতে সুগন্ধী ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন।