ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ বা প্রক্টরের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবস্থান, ঘোরাফেরা এবং কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটি।

হল প্রশাসনের পূর্বানুমতি ব্যতিত কোনো অভিভাবক এবং অতিথি হলে অবস্থান করতে পারবেন না। প্রয়োজনে হল কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেবে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রভোস্ট কমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও হোস্টেলগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ছাত্রত্ব নেই এমন কাউকে হলে থাকতে দেওয়া হবে না। ‘অছাত্রদের’ হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, আবাসিক হল ও হোস্টেলসমূহে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন, চরমপন্থি ও উগ্র ভাবাদর্শ প্রচারে ও কর্মকাণ্ডের কেউ সংশ্লিষ্ট আছে কিনা সে বিষয়ে সতর্ক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রশাসনকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ও চরমপন্থিরা যাতে কোনো অবস্থাতেই হলে প্রবেশ অথবা অবস্থান করতে না পারে সে ব্যাপারে হল প্রশাসন ‘সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর’ থাকবে বলে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সকল হলে অবস্থানরত ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হল প্রশাসন নিয়মিত মত বিনিময় সভা করবে।

এতে আরও বলা হয়, শিক্ষা ও শিক্ষা-সহায়ক কর্মকাণ্ড ব্যতিত আবাসিক হল/হোস্টেলে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও স্বাভাবিক জীবনে বিঘ্ন ঘটায় এমন কর্মসূচি (উস্কানিমূলক বক্তব্য, গুজব ছড়ানো প্রভৃতি) গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিতে হবে। সম্প্রতি ছাত্রী হলে যারা গভীর রাতে স্লোগন দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিঘ্ন ঘটিয়েছে তাদেরকে আবাসিক জীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে যত্মশীল থাকার জন্য পরামর্শ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রাধ্যক্ষগণ চিঠি দিবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলসমূহে সাম্প্রতিককালে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অনাকাক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা ও সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য গত ৫ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্ত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা গত কয়ে মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে, যার কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তাদের আন্দোলনের মধ্যে এক রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে তাণ্ডব চালানো হয়। আন্দোলনকারীদের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে একটি ছাত্রী হলে রাতভর চলে উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল সংসদে কোটা পদ্ধতি আর না রাখার কথা বলায় আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন না পেয়ে তারা নতুন করে আন্দোলনে নামলে ওই কর্মসূচিতে কয়েক দফা ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটে।