ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: আন্দোলনের ইস্যু বের করার দুরভিসন্ধি নিয়ে বিএনপি কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বনানীতে সেতুভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

কাদের বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের নতুন যাত্রার সময় আমি একেবারে অসুস্থ ছিলাম। দু’দিন খবরের কাগজও পড়তে পারিনি। পরবর্তীতে যা জেনেছি ও শুনেছি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে যতটা জানতে পেরেছি। এখন একটা কমিটি হয়েছে। এতদিন একটা অনিশ্চয়তা ছিল- সবাই বলেছে কমিটি নেই। এখন তো মন্ত্রণালয়ের সচিবদের দিয়ে একটা কমিটি করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই কমিটির কার্যক্রমের প্রথম মিটিং হয়েছে। কিছু তথ্য-উপাত্তের জন্য দেশে-বিদেশে… কমপ্লেক্স এবং কমপ্লিকেটিভ বিষয়। কাজেই এই বিষয়টা হুট করে সমাধান করা যাবে না। সরকারের আন্তরিকতা ও ইচ্ছার সামান্যতমও কমতি নেই।’

আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তাদের আবারও বলবো যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, একটা শক্তিশালী কমিটি করে দিয়েছেন। কমিটিও তাদের তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ও তার নির্দেশে কমিটির কাজ এগিয়ে চলছে। এই কর্মকাণ্ডের ওপর আস্থা রেখে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধের্য ধরে, কিছুটা সময় অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা করেন। তিনি কথা দিলে কথা রাখেন।’

কোটা আন্দোলন নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘সরকারের যেকোনও কথা, যেকোনও আশ্বাস বিএনপির কোনোদিনই পছন্দের নয়। তাদের ব্যাপারটা এমন- ‘যারে দেখতে না পারি, তার চলন বাঁকা’। সরকার যা-ই করে, তাতে তাদের কোনও আস্থা নেই। তাদের কোনও সায় নেই। কাজেই বিএনপি কী বললো না বললো, তারা আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছে। নয় বছর আন্দোলনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।’’

‘আন্দোলন ছাড়া বিএনপি নেত্রীকে জেল থেকে বের করা সম্ভব নয়’ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের মানুষ পুড়িয়ে মারার আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছে।বাংলাদেশের মানুষ এই ধরনের আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কাজেই জনগণকে সম্পৃক্ত করে যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন করতে গিয়ে তারা বার বার ডাক দিয়েছে, জনগণ সাড়া দেয়নি।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এই যে কোটা সংস্কার আন্দোলন,অর্থাৎ অন্য কোনও আন্দোলনকে তাদের ইস্যু করার চেষ্টা আমরা লক্ষ্য করে আসছি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) তিনিও কোটা সংস্কারের অন্দোলনে জড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে ফোন দিয়েছিলেন এটা সবারই জানা।’

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন করার মতো জনসমর্থন তাদের নেই, তাই তারা আজকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের ওপর ভর করেছে। এখান থেকে যদি কোনও ইস্যু বের করা যায়। যদি আন্দোলনের কোনও ইস্যু পিকআপ করা যায়, এটাই তাদের দুরভিসন্ধি।’ ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়’— বিএনপি নেতাদের এমন দাবি প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘বিষয়টাতো সেটা না। আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়া যদি বেরিয়ে আসেন, তাহলে তো মুক্ত হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে বেগম জিয়াকে মুক্ত করার অন্য কোনও পথ আমাদের জানা নেই। এখন বিএনপি বলছে তারা আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করবে, দেখা যাক।’

নির্বাচনের আগে বিএনপি নেত্রীর জেলখানায় থাকা নিয়ে মানুষের মাথা ব্যথা নেই বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘এখন নির্বাচনের মাত্র তিন মাস বাকি। মানুষ এখন ইলেকশনের মুডে আছে। মানুষ এখন ঝুঁকে গেছে নির্বাচনের দিকে। এ সময়ে বেগম জিয়াকে নিয়ে, বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে কারও মাথা ব্যথা অছে মনে হয় না। এটা বিএনপির থাকতে পারে। আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি মুক্তি পেলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’

‘বিএনপিকে ভারত কিছুতেই ভরসা করবে না’ দিল্লিতে এইচটি ইমামের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এইচটি ইমাম সাহেব সম্পর্কে মিডিয়ায় যে খবর এসেছে, সেটা আমি তার সঙ্গে আলাপ করে চেক করার সুযোগটা পাইনি। কারণ, তিনি নয়া দিল্লি থেকে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের একটা প্রোগ্রামে গেছেন,বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে। তিনি ব্রাসেলসে আছেন। বিষয়টা তার কাছে চেক না করে কোনও কমেন্ট করা উচিত না।’

তিনি বলেন, ‘তার পরেও আমি একটা বিষয় সাধারণভাবে বলতে পারি, ভারত একটা স্বাধীন সার্বভোম দেশ। ভারত অন্য কোনও দেশের সরকারি-বেসরকারি রাজনৈতিক লোককে পাত্তা দিলো কী দিলো না, এটা আমাদের বলার বিষয় নয়। তিনি যদি সেটা বলে থাকেন, সঠিক বলেননি। তিনি বলেছেন কিনা, সেটা আমাকে কনফার্ম হতে হবে।’