ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: আগামীকাল বুধবার মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সারা দেশে একযোগে ৩০ লাখ গাছের চারা রোপন কর্মসূচি পালন করা হবে।

এ উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন। শেরেবাংলা নগরে বাণিজ্য মেলার মাঠে সাত দিন পরিবেশ মেলা এবং মাসব্যাপী এই বৃক্ষ মেলা চলবে।

বন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ৩০ লাখ গাছের চারা রোপন করা হবে। এরই মধ্যে ৩০ লাখ চারা সরবরাহ করা শেষ। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হলেও এবার জুন মাসে রোজা থাকায় এবং গাছের চারা প্রস্তুতির জন্য দিবসটি পালনের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার এবং সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের মধ্যে চেক বিতরণ করবেন। পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া স্টলের মধ্যে নির্বাচিত তিনটি স্টলকে সনদ দেওয়া হবে।

এদিকে, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কারের জন্য নয়টি শ্রেণিতে ২৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্তরা সনদ ও ক্রেস্ট পাবেন। নীতিমালা অনুযায়ী পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের বাজারমূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ, ৫০ হাজার টাকার চেক ও সনদপত্র দেওয়া হবে। বিরল, বিপদাপন্ন, বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণী প্রজাতি সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১০ সাল থেকে এই পুরস্কার চালু করে সরকার।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা শ্রেণিতে মুন্সিগঞ্জের পয়শা উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম, কুমিল্লা চান্দিনার ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দ্বিতীয় ও নড়াইলের লোহাগড়ার ৪ নম্বর নলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৃতীয় পুরস্কার পাবে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিতে মৌলভীবাজারের শাহ নিমাত্রা সাগরনাল ফুলতলা কলেজ প্রথম, কুমিল্লা চান্দিনার রেদোয়ান আহমেদ কলেজ দ্বিতীয় এবং মৌলভীবাজারের তৈয়বুন্নেছা খানম একাডেমি ডিগ্রি কলেজ তৃতীয় পুরস্কার পাবে।

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন শ্রেণিতে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা পরিষদ প্রথম, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ দ্বিতীয় ও সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা পরিষদ তৃতীয় পুরস্কার পাবে।

অধিদপ্ততর, পরিদপ্তর, সেক্টর করপোরেশন, প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন প্রথম এবং গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় পুরস্কার পাবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ শ্রেণিতে প্রথম পুরস্কার পাবেন দিনাজপুরের নতুন ভূষির বন্দরের পায়েল দেবী আগরওয়ালা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন যথাক্রমে নওগাঁর পোরশার আব্দুস ছালাম মন্ডল ও লক্ষ্মীপুর সদরের দত্তপাড়ার জাহানারা শফিক।

ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন যথাক্রমে সাভারের আশুলিয়ার হোসেন নার্সারি (মালিক হাসিনা বেগম), খুলনার পাইকগাছার ডালিয়া নার্সারি (মালিক তানিয়া খাতুন) ও বগুড়া সদরের গোকুল বাঘোপাড়ার সৌখিন নার্সারি (মালিক মো. আতিকুল ইসলাম)। বাড়ির ছাদে বাগান সৃজন শ্রেণিতে ফরিদপুর কমলাপুরের হান্না শুক্তি কনা, রাজশাহী রাজপাড়ার তহমিনা খাতুন ও দিনাজপুর সদরের মধ্য বালুবাড়ীর সুলতানা ফেরদৌসী যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

‘বন বিভাগ কর্তৃক’ সৃজিত বাগান’ শ্রেণিতে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীতরা হলেন- বরিশাল সামাজিক বন বিভাগ, নোয়াখালীর উপকূলীয় বন বিভাগের চরবাটা রেঞ্জ ও নোয়াখালীর উপকূলীয় বন বিভাগের চর আলাউদ্দিন রেঞ্জ। ‘বৃক্ষ গবেষণা, সংরক্ষণ, উদ্ভাবন মূল্যায়ন’ শ্রেণিতে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটটের বিভাগীয় কর্মকর্তা রফিকুল হায়দার প্রথম এবং সাতক্ষীরা সদরের বলাডাঙ্গার মো. ইয়ারব হোসেন দ্বিতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

এছাড়া তিনটি শ্রেণিতে তিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন-২০১৮’ এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, গবেষক, বিজ্ঞানী, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবাদী ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কর্মী বা ব্যক্তিত্ব’ শ্রেণিতে পুরস্কার পাচ্ছেন- পাখি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক।

বন্যপ্রাণী বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা শ্রেণিতে পুরস্কারের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. মফিজুল কবিরকে মনোনীত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে নওগাঁর মহাদেবপুরের ‘আলী দেওনা পাখি সংরক্ষণ কমিটি’ পুরস্কার পাচ্ছে।