ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জাতিগত সহিংসতায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে পরিচয়পত্র দেবে সরকার। এদের আশ্রয় দিতে কক্সবাজারে দুই হাজার একর জমির ওপর নতুন আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

ইতিমধ্যেই রোহিঙ্গাদের জন্য কুতুপালংয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে সাত সদস্যের কমিটি ওই এলাকা পরিদর্শন করেছে।

রোববার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

হজ পালন শেষে দেশে ফিরেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এতে পুলিশ প্রধান, দুই সচিব, র‌্যাব, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রধান ছাড়াও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকারের সবক’টি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য বিমান, নৌ ও সড়কপথে তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ দেশি ও আন্তর্জাতিক কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাবে না। এজন্য পাসপোর্ট অধিদফতরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সোমবার থেকেই পরিচয়পত্র তৈরির কাজ শুরু হবে।

বৈঠকে উপস্থিত একটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা ইসু্যতে দেশে কেউ যেন পানি ঘোলা করতে না পারে সেজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। দেশের প্রতি জেলার ডিসি ও এসপিদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, যার বেশির ভাগ নারী ও শিশু। মানবতার বিষয়টি চিন্তা করে আপাতত তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ের কাছে ইতিমধ্যেই দুই হাজার একর জায়গা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আপাতত তাবু দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র করে দেয়া হচ্ছে। পরে ঘর করে দেয়ার বিষয়টি চিন্তা করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ও বিজিবি নিয়োজিত থাকবে।

নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশে নিরুত্সাহিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তার পরও যদি অনুপ্রবেশ ঠেকানো না যায় তবে প্রয়োজনে আরও জমি বরাদ্দ করা হবে।