ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী প্রক্রিয়া কার্যকর শুরু হলেও সবাই চাচ্ছেন এ প্রক্রিয়ায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে জাতিসংঘ জড়িত হোক। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাকে এ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় সাড়া দেয়নি মিয়ানমার। ফলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও সন্দেহ দেখা দিয়েছে যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিলেও মিয়ানমারে তারা ফের আগের মত নিজেদের বসত ভিটায় ফেরত গিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন কি না।

ফোন-ইনের মাধ্যমে বিবিসির শ্রোতারা বলেছেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যুক্তিযুক্ত নয়। তাদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উচিত এবং এতে জাতিসংঘ ও তার শরণার্থী সংস্থার কাজ করা উচিত।

চট্টগ্রামের আবু ফজল মোহাম্মদ বোরহান বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন জটিল আকার ধারণ করেছে। তাদেরকে নির্যাতনের সময় মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় উগ্র বৌদ্ধরাও জড়িত ছিল। এ পরিস্থিতির ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাই তারা কিছু শর্ত দিয়েছে। শর্তগুলো হলো- জাতিসংঘের উপস্থিতিতে তাদের বসতভিটা এবং নাগরিক পরিচয় বুঝিয়ে দিতে হবে। তাহলে তারা সেখানে ফিরে যাবে।

পিরোজপুরের নাজমুল ইসলাম মাসুদ বলেন, রোহিঙ্গার বিষয়টি স্পর্শকাতর। যেমনটি আমরা ১৯৭১ সালে রোহিঙ্গাদের মতো শরণার্থী ছিলাম। কিন্তু কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য তারা চুক্তির ভিত্তিতে স্বার্থমাফিক লোক নিবে। এতে জাতিসংঘের কোন হস্তক্ষেপ নেই।

সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তাই তাদেরকে সুনির্দিষ্ট নাগরিক সুবিধা দিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

পঞ্চগড়ের সাদিকুল বারি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার চুক্তিটা অতি নগণ্য। চুক্তিটা আগের মতো নয়। আর জাতিসংঘ নির্যাতিত এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি। মিয়ানমারকে জাতিসংঘের আরো চাপ দেয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের উচিত জাতিসংঘ এবং ইউএনএইচসিআরকে সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো।

কুমিল্লার মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ফেরত পাঠানোটা বাংলাদেশের ক্রেডিট। তবে এটা আন্তর্জাতিক এবং মানবাধিকার ইস্যু হওয়ার পরেও জাতিসংঘ এবং ইউএনএইচসিআরকে অন্তর্ভূূক্ত না করে কিভাবে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্ভব হলো? তাড়াহুড়ো করে তাদের ফেরত পাঠানোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

খুলনার জুলফিকার আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের আগেও ফেরত পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তারা নির্যাতিত হয়ে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। এখন ফেরত পাঠানো গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবের মাধ্যমে তাদেরকে ফেরত পাঠাতে হবে।

পঞ্চগড়ের নাহিদ আল আমিন বলেন, জাতিসংঘের দিক থেকে মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট চাপ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঝালকাঠির বশির উদ্দিন বলেন, সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো উচিত। কারণ তারা এর আগেও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

ঢাকার মীর মোহাম্মদ সবুজ বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের চুক্তি ভালো করেছে। ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মা-ভাই-বোন হারিয়ে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। এবারের যুদ্ধে মিয়ানমার হেরেছে। এখানে কোন রাজনৈতিক ব্যবহার ছিল না। সারাবিশ্বের চাপের ফলে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে। তারা ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে, তাদের ভুল বুঝতে পেরে চুক্তি করেছে। মানচিত্র থেকে তাদের নাম উঠে যাবে, এ ভয়ে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে। তাদের নাগরিকত্ব এবং নিরাপত্তার কোন সমস্যা হবে না, এমন নিশ্চয়তা দিয়ে ফেরত পাঠানোতে জাতিসংঘের সহায়তা দরকার।