ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: গণতান্ত্রিক দেশে সাংবাদিক নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না মন্তব্য করে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, সরকারের মদদপুষ্ট লোকেরাই সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে। হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দেন নেতারা। প্রয়োজনে রাজপথ অবরোধ করারও হুমকি দেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তরা এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এ সমাবেশ করা হয়।

আয়োজক সংগঠন ডিআরইউ আয়োজিত ওই সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, যখনই কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়, তখনই সাংবাদিকেরা আঘাতপ্রাপ্ত হন। গেল সপ্তাহে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে একাধিক সংবাদকর্মী এবং ফটোগ্রাফার আহত হন। হ্যালমেট পরে একদল যুবক তাদের উপর হামলা চালায়। পরে গণমাধ্যমে তাদের ছবি ও পরিচয় মিলেছে। কিন্তু সরকার ঘটনার এক সপ্তাহর পরেও কাউকে গ্রেফতার করেনি। কেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। হামলাকারীরা অবিলম্বে গ্রেফতার না হলে সংবাদ বর্জনের করা হবে।

হামলাকারীরা চিহ্নিত দাবি করে সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার দায় সরকারের। যা সরকার এড়াতে পারে না। আমরা আগামী শনিবার কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠন যুগপৎভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করব। এরপর স্বরাষ্ট্র ও তথ্যমন্ত্রীর নিকট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপরও বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এ বছরে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য এখনই অপরাধীদের বিচার করতে হবে। সাংবাদিকদের উপর হামলা-নির্যাতন কখনই শুভ হবে না।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভর পরিচালনায় সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সাংবাদিকদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। সাংবাদিকদের কাজ রাজপথে নয়, কিন্তু চিহ্নিত হামলাকারীদের গ্রেফতার না হলে আমরা বাধ্য হবো রাজপথ ঘেরাও করতে। দোষী চালকদের পাচ বছর শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইনের তীব্র সমালোচনা করেন বাদশা। বলেন, সড়কে মৃত্যুর দায়ে পাচ বছর শাস্তি খুবই কম। এ আইন পাশ হলে খুবই দুঃখজনক হবে।

সমাবেশে সাংবাদিকদের স্বার্থে প্রয়োজনে রাজপথ আটকে দেওয়ার হুমকি দেন সাংবাদিক নেতারা। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সাংবাদিক নেতা অমিয় ঘোটক পোলক, মামুনুর রশীদ, ডিআরইউ নেতা মানিক মুনতাসীরসহ সংগঠনের সাবেক নেতারা।